বরিশালের বাবুগঞ্জে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যার শিকার শিশু রাইসা আক্তারের শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সমাজসেবক মোঃ মশিউর রহমান। সোমবার (২৩ মার্চ) তিনি উপজেলার দেহেরগতিসাইফুল ইসলাম ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দিনমজুর নজরুল হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি নিহত রাইসার পিতার হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন, যা এলাকায় মানবিক সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। সহায়তা প্রদানকালে চেয়ারম্যান মোঃ মশিউর রহমান বলেন, রাইসার মতো একটি নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে নির্মমভাবে হারানো আমাদের সমাজের জন্য গভীর বেদনার। আমি এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আজ এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষুদ্র প্রয়াস নিয়েছি। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদেরও এমন দুর্দিনে এগিয়ে আসা উচিত। নিহত রাইসা আক্তারের পিতা দিনমজুর নজরুল হাওলাদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়েটা খুবই নিষ্পাপ ছিল। তাকে এভাবে হারাতে হবে কখনো ভাবিনি। আমরা গরিব মানুষ, মেয়ের চিকিৎসা ও দাফন-কাফনে অনেক কষ্ট হয়েছে। চেয়ারম্যান সাহেব আজ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন; এ জন্য কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই। প্রসঙ্গত, গত ১৪ মার্চ ২০২৬ বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর রাকুদিয়া গ্রামে রাইসা আক্তারকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১৫ মার্চ তার মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্থানীয়রা।