কিশোরগঞ্জের ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া এলাকায় আধিপত্য জের ধরে ইমাম হোসেন নামের (১৭) এক যুবককে কুপিয়ে আহত করলে তাকে মুমর্স অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমাম হোসেন মারা যায়। সে গ্রামের পাগলা বংশের ইসা মিয়া ছেলে । এ সময় মকবুল মিয়ার ছেলে জুবায়ের (২৩) সেও গুরতর আহত হয় । মারা যাওয়ার সংবাদ গ্রামে পৌছলে প্রতিপক্ষ শেখ বংশের প্রতিটি বাড়িতে চলে মালামাল লুটপাট,চলে বাড়ি-ঘর ভাংচুর। সেই সাথে গোয়াল ঘর থেকে অন্তত অর্ধশত গরু-বাছুর লুট কওে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গ্রাম সুএে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ৯ টার সময় লুন্দিয়া বড় পাড়া আলগা বাড়ির একটি বিয়ে অনুষ্ঠানের হলুদ সন্ধ্যা অনুষ্ঠান চলছিলো। পাগলা বংশের ইমাম হোসেন বন্ধুদের সাথে অনুষ্ঠান দেখতে যায়। এসময় শেখ বংশের লোকজন ইমাম হোসেনকে পেয়ে তার সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে।এক পর্যায়ে শেখ বাড়ির লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ো ইমাম হোসেনকে আঘাত করলে সে দৌড়ে পালিয়ে যেতে চাইলে দৌড়ানো অবস্থায় আইয়ুব আলি মিয়ার বাড়ির কাছে আহত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে। লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাত ১১ টার সময় নিয়ো আসে। ১৫ মিনিট পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যায়।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ত্বরত মেডিকেল অফিসার ডাক্তার উম্মো হাবিবা জুই জানান ,গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১১ টার সময় আমাদের এখানে ইমাম হোসেনকে নিয়ে আসে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরন ও বাম উরুতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কারণে তার মৃত্যু হয় বলে জানান।
ভৈরব থানার ওসি তদন্ত আবু তালেব বলেন,আমরা ইমাম হোসেন মারা যাওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন,লাশ উদ্ধার করে কিশোরগঞে মর্গে প্রেরন করে, ময়না তদন্ত শেষে মঙ্গল বিকেলে পারিবারিক ভাবে দাফনের জন্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে ।
ভৈরব সার্কেলের পুলিশ সুপার ফয়জুল ইসলাম কালের কন্ঠকে জানান ,আমরা খটনার খবর পেয়ে পুলিশ,র্যাব ও সেনাবাহিনী এলাকায় অবস্থান করি। অপৃতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে,তবে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পযন্ত কোন মামলা হয় নাই। বর্তামানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
তবে সোমবার রাতে ঘটনার সাথে জরিত ২জনকে আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে। এরা হচ্ছে মো: সোহরাব মিয়া ও রসিদ মিয়া। তবে সোহরাব ঘটনার সাথে জরিত নয় বলে দাবী করেছে,তার বাড়ি উপজেলার মধ্যেরচর গ্রামে বলে জানায় সে।
উল্লেখ্য ,গত আট-দশ বছর যাবত পাগলা বংশ ও শেখ বংশ মধ্যে আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ২০২১ সালে পাগলা বাড়ি ও শেখ বাড়ি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হলে শেখ বাড়ির ২ জন নিহত হয়েছিলো। এরা হচ্ছে মোতালেব মিয়ার ছেলে মকবুল মিয়া ও খালেক মিয়ার ছেলে পাবেল মিয়া। এর পর থেকে পাগলা বাড়ি ও শেখ বাড়ির মাঝে আধিপত্য নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো।