প্রেমিকের ছুড়িকাঘাতে আহত প্রেমিকা প্রিয়া আক্তার (২০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
গত ১৭ মার্চ রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদি হয়ে ঘাতক প্রেমিক ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে বরিশালের গৌরনদী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নিহত প্রিয়া কালকিনি উপজেলার শিকারমঙ্গল এলাকার সায়েদ বেপারীর মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর পূর্বে প্রিয়া আক্তারের সাথে কালকিনি পৌর এলাকার ঠেংগামারা গ্রামের আবুল কালাম সরদারের ছেলে বায়েজিদের ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়।
পরিচয়ের সূত্রধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। কয়েক মাস পর প্রেমিক বায়েজিদের হাত ধরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসে প্রিয়া।
পরবর্তীতে আবার ওই তরুনী তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যায়। একপর্যায়ে দুই পরিবারের সম্মতিতে বায়েজিদকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
বিদেশ যাওয়ার জন্য ৪ লাখ টাকা বায়েজিদের হাতে তুলে দেয় প্রিয়ার পরিবার। তবে এক মাসও বিদেশে না থেকে বাংলাদেশে চলে আসে বায়েজিদ।
গত ১৪ মার্চ ঈদের শপিং করে দেওয়ার কথা বলে প্রিয়াকে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামে বায়েজিদের নানা বাড়ির এলাকায় নিয়ে আসে।
পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রিয়ার গলা ও পেটে ছুরিকাঘাত করে বায়েজিদ।
পরবর্তীতে বায়েজিদ ও তার খালা আহত প্রিয়াকে কালকিনি হাসপাতালে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে প্রিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
ঢাকায় চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর প্রিয়ার মৃত্যু হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরনদী মডেল থানার এসআই মো. ওয়ালিউল্লাহ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় নিহতের মা লুতু বেগম বাদি হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।