মার্চেই রেমিট্যান্সে বড় বৃদ্ধি, দেশে এসেছে সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৪ মার্চ, ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
মার্চেই রেমিট্যান্সে বড় বৃদ্ধি, দেশে এসেছে সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকা

চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৩ মার্চের মধ্যে এই আট দিনে এসেছে ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের মার্চে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ২৬৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে প্রবাসীরা সাধারণত বেশি অর্থ পাঠান।

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫২৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ২ হাজার ১১২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের তুলনায় ১৯ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সরকারি প্রণোদনা, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধা এবং হুন্ডি প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “প্রবাসী আয়ের ধারা শক্তিশালী থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ইতিবাচক প্রভাবিত হচ্ছে। যদি এই প্রবাহ অব্যাহত থাকে, তবে মার্চের শেষে নতুন রেকর্ড হতে পারে।”

ফেব্রুয়ারিতে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ১৬ মার্চ পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের মধ্যে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই ধারা ধরে রাখতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং নতুন শ্রমবাজারের সন্ধান জরুরি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে