জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৪ মার্চ, ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ঘোষণা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের সন্তান এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ‘জুলাই শিক্ষার্থী যোদ্ধা’দের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা খাতের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষা খাতকে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা (কেডস) প্রদান, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ঋণ সুবিধা এবং হাফেজে কোরআনদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণের জট দূর করতে একাধিক শিফটে প্রশিক্ষণ চালানো হবে এবং জাতীয়করণকৃত ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণ করা হবে এবং খুব দ্রুত সারা দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা এবং স্কুল-কলেজের সব শিক্ষকের হাতে ট্যাব সরবরাহ করা হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড চালু এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।

ড. এহছানুল হক মিলন সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই কর্মসূচি দেশের মানুষের কল্যাণ এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন পূরণই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য।”

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে