ঈদের ছুটি শেষ হলেও এবার যেন উৎসবের রেশ কাটছে না। ঈদের পরপরই স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা আরও কয়েকদিনের অবকাশ পাওয়ায় ঢাকায় ফেরার তাড়াহুড়ো কমে গেছে। ফলে ঈদের ষষ্ঠ দিনেও রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীচাপ তুলনামূলক কম দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, স্টেশন এলাকা অনেকটাই ফাঁকা। ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় সামান্য কোলাহল ছাড়া চারপাশে ছিল শান্ত পরিবেশ। টিকিট কাউন্টারগুলোতেও তেমন ভিড় নেই, দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি সময় পার করছেন।
স্টেশনের প্রবেশপথেও কোনো চাপ ছিল না। নিরাপত্তাকর্মীরাও তুলনামূলক স্বস্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ইমরান হোসেন জানান, এখনো তেমন ভিড় শুরু হয়নি। যাত্রীরা নির্বিঘ্নে আসা-যাওয়া করছেন। তবে শুক্রবার রাত থেকে এবং শনি-রোববারে যাত্রীচাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মগুলো ঘুরে দেখা যায়, সেগুলো প্রায় ফাঁকা। এ সময়ে ঢাকার বাইরে থেকে আসা কয়েকটি ট্রেনে যাত্রীসংখ্যা কম ছিল এবং স্ট্যান্ডিং যাত্রীও তেমন দেখা যায়নি। যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ট্রেন থেকে নেমে স্টেশন ত্যাগ করেছেন।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই ঈদের আগেই ঢাকা ছেড়েছিলেন এবং এখন ধীরে সুস্থে ফিরছেন। কেউ কেউ আবার পরিবারের সদস্যদের গ্রামে রেখে আগে ঢাকায় এসেছেন, বাকিরা পরে আসবেন।
অন্যদিকে, যারা ঈদের সময় বাড়ি যেতে পারেননি, তারা এই অতিরিক্ত ছুটিকে কাজে লাগিয়ে এখন গ্রামে যাচ্ছেন। অনেকেই ঈদের ছুটি শেষে দুই দিন অফিস করে আবার তিন দিনের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য।
রাজশাহী থেকে বনলতা এক্সপ্রেসে ঢাকায় আসা শামীম হোসেন বলেন, ছুটি থাকলেও আগেই টিকিট কাটা ছিল, তাই চলে এসেছেন। যাত্রা ছিল একদম নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক।
একই ট্রেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা আরিফুল ইসলাম জানান, ট্রেন সময়মতো এসেছে এবং কোনো ভিড় ছিল না। ধারণা করছেন, দুই দিন পর যাত্রীচাপ বাড়তে পারে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন জানান, সকাল ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসেছে ৯টি ট্রেন এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে গেছে ৬টি ট্রেন। সব ট্রেন নির্ধারিত সময়েই চলাচল করছে এবং কোথাও উল্লেখযোগ্য চাপ নেই।
রেল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, আজ বিভিন্ন জেলায় যেসব ট্রেন যাচ্ছে, সেগুলোর টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। অনেকেই আগেভাগেই পরিকল্পনা করে ছুটির এই সময়টিতে বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
সব মিলিয়ে, ঈদের পরের এই বাড়তি ছুটিতে ঢাকায় ফেরার চাপ কম থাকায় ট্রেনযাত্রা এখন অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠেছে। তবে ছুটি শেষে আবার কর্মজীবনে ফেরা শুরু হলে যাত্রীচাপ বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।