যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক জবাব দিল ইরান

এফএনএস | প্রকাশ: ২৬ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক জবাব দিল ইরান

চার সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের এই প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ইরান একাধিক শর্ত সংযুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— ‘গুপ্তহত্যা ও আগ্রাসন’ সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত যাতে পুনরায় না ঘটে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা প্রদান। একইসঙ্গে যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য স্পষ্ট ও কার্যকর ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে তেহরান।

এছাড়া ইরান শুধু নিজস্ব ফ্রন্ট নয়, বরং পুরো অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যাতে সামগ্রিকভাবে সংঘাত নিরসন সম্ভব হয়।

সূত্রটি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণকে ‘স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও তেহরানের শর্তগুলোর অন্যতম। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য অবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইরান।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান যে দাবিগুলো উত্থাপন করেছিল, বর্তমান প্রস্তাবের জবাবে সেগুলোকেও পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো সন্দিহান তেহরান। ইরানি সূত্রের দাবি, ওয়াশিংটনের আলোচনার আহ্বানকে তারা পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না। তাদের মতে, এটি এক ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে শান্তিকামী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাচ্ছে এবং একই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য সময় নিয়ে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইরানের এই আনুষ্ঠানিক জবাব নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ালেও যুদ্ধ পরিস্থিতি কতটা দ্রুত প্রশমিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে