মান্দায় তেল কান্ডে মহাসড়ক অবরোধ

এফএনএস (নজরুল ইসলাম; মান্দা, নওগাঁ) : | প্রকাশ: ২৯ মার্চ, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
মান্দায় তেল কান্ডে মহাসড়ক অবরোধ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার শাপলা ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ বাইক চালকেরা। আজ রোববার (২৯ মার্চ) সকালের এ ঘটনায় অবরোধ সরাতে এসে বিব্রতকর বক্তব্যে বাইকারদের তোপের মুখে পড়েন ওসি। অবস্থা বেগতিক দেখে ঘটনাস্থল থেকে তিনি সটকে পড়েন।     বাইক চালকদের অভিযোগ, পাম্পগুলোতে তেলের মজুত থাকলেও তা বাইকারদের না দিয়ে গভীর রাতে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। নাম মাত্র কিছু বাইকারদের তেল দিয়ে পাম্প বন্ধ করে দিচ্ছেন মালিকেরা। প্রশাসনের তদারকি না থাকার সুযোগে পাম্পমালিকেরা বিতরণে এমন কারসাজি করছেন। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ।  জানা গেছে, রোববার উপজেলার শাপলা ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল না পেয়ে ক্ষুব্ধ বাইক চালকেরা নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে মহাসড়কের দু’পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ চালকের সরিয়ে দিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঘন্টাব্যাপি অবরোধের ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা।  বিক্ষুব্ধ বাইক চালক শরিফ উদ্দিন বলেন, রোববার সকাল ৭টার থেকে সাতবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত শাপলা ফিলিং স্টেশনে বাইক চালকদের মধ্যে পেট্রোল বিতরণ শুরু করা হয়। বেলা ১০টা পর্যন্ত ৩ হাজার লিটার তেল বিতরণের কথা জানিয়ে পাম্প বন্ধ করে দেন কর্তৃপক্ষ। অথচ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় মিলছে এক লিটার তেল। আসলাম হোসেন নামের একজন ভুক্তভোগী বলেন, আমি সকাল ৬টার থেকে তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমরা শেষ লাইনে ছিলাম। মাঝ পথে এসে তেল নেই বলে জানিয়ে দেন পাম্প মালিক পক্ষ। আদৌ তেল ফুরিয়ে গেছে কি না আমরা জানি না। তেল না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেছি। আরেক ভুক্তভোগী বলেন, পাম্প কতৃপক্ষের যথেষ্ট গাফলতি লক্ষ্য করেছি। আমাদের তেল দেওয়ার কথা ছিল ৩০০ টাকা করে। পরবর্তীতে ম্যানেজারের নিজস্ব সিদ্ধান্তে ৫০০ টাকা করে তেল দেওয়ার কারণে অনেক ভুক্তভোগী তেল পাননি। আমরা যারা চাকরি করি, তেলের অভাবে আমাদের গাড়ী না চললে বেতন পাব না। তাহলে আমরা খাব কী। তাই মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। এদিকে মহাসড়ক অবরোধের সংবাদ পেয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কেএম মাসুদ রানা ঘটনাস্থল পৌঁছে অবরোধ সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তিনি বলেন, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়া তেল দেওয়া হবে না। এতে বিক্ষুব্ধ চালকেরা ওসির সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে সেখান থেকে সটকে পড়েন তিনি। মান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন বলেন, ‘কাগজপত্র ছাড়া বাইকে তেল দেওয়া হবে না এমন কোনো নির্দেশনার বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে ওসি কেন এ কথা বলেছেন সেটি আমি বলতে পারছি না।’ এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিল নওরোজ বৈশাখ বলেন, রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড় তেল দেওয়া হবে না এমন কোনো সরকারি নির্দেশনা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিতরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে