ইরান ও লেবাননে যুদ্ধ চালাতে ইসরায়েলের বিশাল বাজেট পাস

এফএনএস অনলাইন ডেস্ক: | প্রকাশ: ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
ইরান ও লেবাননে যুদ্ধ চালাতে ইসরায়েলের বিশাল বাজেট পাস

ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের বাজেট অনুমোদন করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট। 

আজ সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে দীর্ঘ আলোচনা ও বিরোধীদের বাধা পেরিয়ে এই বাজেট পাস হয়। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা এবং বিরোধীদের বাধা অতিক্রম করে শেষ মুহূর্তে এই বাজেট অনুমোদিত হয়। যা দেশটিকে আগাম নির্বাচনের হাত থেকে রক্ষা করেছে। ৮৫০ দশমিক ৬ বিলিয়ন শেকেল বা ২৭১ বিলিয়ন ডলারের এই যুদ্ধকালীন বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ভোটাভুটি চলাকালীন কয়েক দফা ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কবার্তায় সাইরেন বেজে উঠলে সংসদ সদস্যরা নিরাপদ বাঙ্কার সদৃশ সুরক্ষিত কক্ষে গিয়ে ভোটদান সম্পন্ন করেন। ক্ষমতাসীন জোটের ৬২ জন সদস্য বাজেটের পক্ষে এবং ৫৫ জন বিপক্ষে ভোট দেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এককভাবে ১৪৩ বিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ইসরায়েলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই বাজেটকে ‘বিজয় নিশ্চিত করার পরিকল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এটি ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি পুনর্গঠন এবং শত্রু দমনে সক্ষম করে তুলবে। 

বাজেটের অর্থ সংস্থানের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়া অন্য সব মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৩ শতাংশ হারে কর্তন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯৭ বিলিয়ন শেকেল এবং জাতীয় বিমা ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য ৬৩ বিলিয়ন শেকেল করে বরাদ্দ রাখা হলেও বিরোধী দলগুলো এই ব্যয় পরিকল্পনাকে ‘জনগণের পকেট কাটা’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছে।

বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য এবং বিতর্কিত অংশ হলো কট্টরপন্থী হারেদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ। গত বছরগুলোতে যেখানে এই বরাদ্দ ছিল ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন শেকেল, তা এবার বাড়িয়ে ৫ দশমিক ১৭ বিলিয়ন শেকেলে উন্নীত করা হয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই পদক্ষেপকে ‘রাষ্ট্রীয় চুরির মহোৎসব’ বলে আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, যখন দেশের মানুষ বোমা থেকে বাঁচতে বাঙ্কারে আশ্রয় নিচ্ছে, তখন সরকার নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে তুষ্ট করছে।

অন্যদিকে, হারেদি দলগুলো বাজেটে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে তাদের ছাত্রদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়ে আসছে, যা নিয়ে ইসরায়েলি সমাজে গভীর বিভক্তি তৈরি হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এই বাজেটকে ইসরায়েলের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, যুদ্ধের সময় যখন কৃচ্ছ্রসাধন প্রয়োজন, তখন সরকার নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক স্বার্থে জনগণের অর্থ লুটপাট করছে। এছাড়া পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিগুলোর জন্য ৪০০ মিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ রাখাও সমালোচনার মুখে পড়েছে। বাজেট পাসের ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার আপাতত পতনের হাত থেকে রক্ষা পেল।