পেশাদার খেলোয়াড়রা রাজনীতিতে না আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

এফএনএস প্রতিবেদক: | প্রকাশ: ৩০ মার্চ, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
পেশাদার খেলোয়াড়রা রাজনীতিতে না আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি, সংগৃহিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা হলে’ ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে খেলোয়াড়দের কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তারেক রহমান বলেন, “দেশের সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের কাজে লাগিয়ে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও এগিয়ে যাবে। দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে, ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্যজনক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা হতে পারবে না।”

তিনি বলেন, আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে সারাদেশে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুরু করা হবে। এছাড়া ২০২৭ সাল থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে তরুণ ক্রীড়াবিদদের ‘নতুন বাংলাদেশের সোনালি প্রহরের অগ্রদূত’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আধুনিক প্রশিক্ষণ, সরকারি আর্থিক নিরাপত্তা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ক্রীড়া শিল্প’ গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস ও সাফ গেমসের মতো আসরগুলোতে বিশ্বজয়ের নতুন ইতিহাস লিখবে। 

‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই অঙ্গীকার নিয়ে আমরা ক্রীড়াঙ্গনকে আমূল বদলে দিতে চাই। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী ক্রীড়া দর্শনের কথা স্মরণ করে বলেন, আধুনিক ক্রীড়া কাঠামোর ভিত্তি তিনিই স্থাপন করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাকে আরও আধুনিকায়ন করে দেশের প্রতিটি জেলায় আন্তর্জাতিক মানের ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ এবং প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ‘ক্রীড়া কার্ড’ একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে। তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া শিক্ষা প্রসারে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার ও শিক্ষক নিয়োগের জন্য পদ সৃজনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোর সাতটি বিকেএসপি শাখাকে পূর্ণাঙ্গ বিকেএসপিতে রূপান্তরের মাধ্যমে ঢাকার ওপর চাপ কমিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এর আগে, ক্রীড়া ভাতা দেয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ল্যাপটপের বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গেই সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লাখ টাকা পৌঁছে যায়। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা প্রদান করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে