পাবনার চাটমোহর উপজেলাতে ৬৭ জন অবৈধ জ্বালানি তেলের ব্যবসায়ী রয়েছেন। যাদের কাছে এখনো ২০ হাজার লিটার জ্বালনি তেল মজুদ রয়েছে। চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সরোয়ার হোসেন সোমবার (৩০ মার্চ) এ তথ্য জানালেন। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন,চাটমোহর উপজেলাতে একজন মাত্র ব্যক্তির জ্বালানি তেল বিক্রির অনুমোদন রয়েছে। পাশাপাশি একটি তেল পাম্প আছে। কিন্তু এই উপজেলায় ৬৭ জন খুচরা তেল ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ব্যবসা করছেন। তাদের কাছে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। তারা অধিক দামে গোপনে এই তেল বিক্রি করছেন। বাঘাবাড়ি থেকে তেল আনা হচ্ছে নানাভাবে। রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় দুই তেল ব্যবসায়ীর ২ হাজার ৪০০ লিটার তেল আটক করা হয়। পরে তা ন্যায্যদামে বিক্রি করে প্রশাসন। এদিকে উপজেলার ছাইকোলা,মহেলা বাজার,নিমাইচড়া,শরৎগঞ্জ,পার্শ্বডাঙ্গা,হান্ডিয়াল,ফৈলজানা,বামনগ্রামসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে খোলাবাজারে বাড়তি দামে প্রকাশ্যেই পেট্টোল ও ডিজেল বিক্রির করা হচ্ছে। যেখানে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ টাকা ৩০০ টাকা,ডিজেল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে,যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। ভোক্তারা অভিযোগ করেন,খোলাবাজারে যে তেল বিক্রি হচ্ছে তার প্রায় সবই ভেজাল। ভেজাল তেলের রমরমা বানিজ্য চলছে। এই তেল মোটরসাইকেলে নিয়ে অনেকের মোটরসাইকেল নষ্ট হয়ে পড়েছে। এমনিতেই চাটমোহরসহ আশপাশের উপজেলাতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দিন দিন আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। চাটমোহর উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহ করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। যেদিন জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছে সেদিন অসংখ্য মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ছে। তারপরও অনেকে ফিরে যাচ্ছে তেল না পেয়ে। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরের পর থেকে উপজেলার মথুরাপুরে অবন্থিত একমাত্র ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহের অপেক্ষায় মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তারপরও কাঙ্খিত তেল মেলেনি। মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ ল্ইন তৈরি হয় এবং অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। চাটমোহর এলাকার মোটরসাইকেল চালক আলাউদ্দিন জানান,একদিন আগে দুপুর ২টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাত্র ৩০০ টাকার পেট্টোল পেয়েছি। এযেন আরেক যুদ্ধ। আজ আবার এসেছি। এরকম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন প্রত্যেক মোটরসাইকেল চালকই। তবে অধিক দামে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তেল মিলছে। আবার অনেকেই ভেজাল তেলের রমরমা ব্যবসা করছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,এই সংকটময় মুহূর্তে কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জ্বালানী তেলের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে না পারে সেজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী তদারকি অব্যাহত রেখেছেন। একই সাথে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের পক্ষ থেকেও নজরদারি করা হচ্ছে।