পাবনার চাটমোহরে ইমরান হোসেন (১৭) নামের এক অটোভ্যানচালককে হত্যার ঘটনায় আটককৃত দুইজনকে রিমান্ডে নিয়েছে থানা পুলিশ। রবিবার (২৯ মার্চ) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাটমোহর থানার এসআই আঃ রউফ আসামিদের তিন দিনের রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত একজনকে একদিন এবং অপরজনকে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে আনা দুই আসামি হলেন,নিহত ইমরানের চাচাতো ভাই উপজেলার শুকুরভাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে হেলাল উদ্দিন (৪২) ও চরপাড়া গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে আল আমিন। হেলালকে ২ দিনের ও আল আমিনকে ১ দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে,গত ১২ মার্চ সকাল ৬টার দিকে উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের জালেশ্বর মন্ডলপাড়ায় বড়াল নদের পাড়ে শ্মশানের পাশ থেকে অটোভ্যানচালক ইমরানের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। নিহত ইমরান উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের শুকুরভাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন শুকুরভাঙ্গা গ্রামের হানিফ আলীর ছেলে হেলাল উদ্দিন (৪২),একই গ্রামের কুরবান আলীর ছেলে সুমন (১৮),ভাঙ্গুড়া উপজেলার উত্তর মেন্দা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে ইজাজুল ইসলাম (২০) ও চাটমোহর উপজেলার চরপাড়া গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে আল আমিন (২৫)। আসামি সুমনসহ অন্যরা গত ১১ মার্চ সারাদিনের জন্য ইমরানের অটোভ্যান ভাড়া করে। দিনভর তারা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। এরপর রাতে অটোভ্যানসহ ইমরানকে জালেশ্বর মন্ডলপাড়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে অটোভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ইমরানকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ও মাথায় আঘাত করে হত্যা করে শ্মশানের পাশে ফেলে রেখে অটোভ্যান নিয়ে চলে যায়। রাতেই সুমন ও তার সহযোগিরা অটোভ্যানটি সুমনের ভগ্নিপতি ভাংড়ি ব্যবসায়ী আল আমিনের কাছে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। ১২ মার্চ সকালে এলাকাবাসী সুমন ও হেলালকে গণধোলাই দিতে শুরু করলে তারা ইমরানকে হত্যা ও অটোভ্যান বিক্রির কথা স্বীকার করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমন ও হেলালকে আটক করে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জালেশ্বর মন্ডলপাড়া শ্মশানের পাশ থেকে ইমরানের লাশ উদ্ধার করে। একইসাথে ইজাজুলকে এবং আল আমিনকে আটক করে। উদ্ধার করা হয় অটোভ্যান। চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার হোসেন বলেন,হত্যাকারীরা ইমরানকে হত্যৗার বিষয়টি স্বীকার করলেও তারা এখনো আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি। আদালতে আসামিরা জবানবন্দি দিবে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যের জন্যই রিমান্ডে আনা হয়েছে।