ডিজিটাল ব্যাংকিং যত সহজ হয়েছে, ততই বেড়েছে প্রতারণার ঝুঁকি। স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্যাংক হিসাব খালি। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার শিকার হয়েছেন সিলেটের এক ব্যবসায়ী, যার অভিযোগ সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দায় নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সিলেট নগরীর আম্বরখানা বড়বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. ইসমাইল হোসেন আজাদ চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২৬ মার্চ তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত স্মার্টফোন হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি দেখতে পান, তার ব্যাংক হিসাব থেকে তার অনুমতি ছাড়াই ৩ লাখ ১০ টাকা প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের একটি হিসাব নম্বর (০১৭৫১২১০০০০১২৫৩)-এ স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই তিনি সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানতে পারেন, একই হিসাব ব্যবহার করে আরও অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, অনুসন্ধানে জানা গেছে, যে হিসাবটিতে তার অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে, সেটির হিসাবধারীর নাম সোহেল রানা। একই ব্যক্তির নামে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসিতেও (হিসাব নম্বর: ১৫৫১৪৪০০০৫৮৫৩) একটি হিসাব রয়েছে। তার দাবি, একই ব্যক্তি একাধিক ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন, যা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের ইঙ্গিত বহন করে। তিনি অভিযোগ করেন, ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক বন্ধ থাকায় তিনি সরাসরি ব্যাংকে যেতে পারেননি এবং কল সেন্টারের মাধ্যমে অভিযোগ জানান। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে প্রাপক ব্যাংককে অবহিত করলে সংশ্লিষ্ট হিসাবটি তাৎক্ষণিকভাবে ব্লক করা সম্ভব হতো এবং তার আর্থিক ক্ষতি প্রতিরোধ করা যেত। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক বলেন, “আমি একজন মধ্যবিত্ত মানুষ। এই তিন লাখ দশ টাকা আমার কষ্টার্জিত অর্থ। এই অর্থ হারিয়ে আমি সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত। আমার স্ত্রী গর্ভবতী, তিনি মারাত্মক মানসিক চাপে আছেন। পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, এ ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অননুমোদিত এই লেনদেনের দায়ভার কে নেবে এবং একজন সাধারণ গ্রাহক হিসেবে তাকে একাই এ ক্ষতির দায় বহন করতে হবে কিনা। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট শাখায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।