বরিশালের বাকেরগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত কলেজ ছাত্র মৃত্যুবরণ করছে।
নিহত সাইদুল ইসলাম সজিব ( ২৫) বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের লোচনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন খানের ছেলে এবং সরকারি বরিশাল কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন।
তার মৃত্যুর বিষয়টি মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেলা সোয়া ১১ টায় নিশ্চিত করেছেন বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার কে এম সোহেল রানা।
এরআগে রাত দুইটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সজিবের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
নিহত সাইদুল ইসলাম সজিবের বাবা আবুল হোসেন খান জানান, শনিবার সকালে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের লোচনাবাদ গ্রামে তাদের বসতবাড়ীর জমি সংলগ্ন রেকর্ডীয় জমিতে একটি দোকান ঘর উত্তোলনের কাজ শুরু করেন। এ সময় পরিকল্পিত ভাবে একই গ্রামের বাসিন্দা মো. মিলন খান ৮-১০ জন ভাড়াটে লোকজন হাতে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঠা নিয়ে অতর্কিতভাবে সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলায় তার ছোট পুত্র সাইদুল ইসলাম সজীব রক্তাক্ত জখম হলে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।
এছাড়া ওই হামলায় নিহতের বাবা আবুল হোসেন খান (৬৫), মা পিয়ারা বেগম (৫৫), স্বজন হাসান আলী খান (৫৮) ও আয়শা বেগম (৫০) আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পরবর্তীতে হামলার ঘটনায় আবুল হোসেন খান বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তবে সেই মামলায় কাউকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
যদিও বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার কে এম সোহেল রানা জানিয়েছেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে মারামারি ঘটনা ঘটেছে দুইপক্ষের মধ্যে। যে ঘটনায় উভয় পক্ষ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন বাকেরগঞ্জ থানায়। পুরো ঘটনা তদন্ত চলছে, সেইসাথে আসামীদের গ্রেপ্তারেরও চেষ্টা চলছে।