শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ঝগড়ারচর বাজার থেকে শেরপুর সদরের হেরুয়া বাজার পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৫০ মিটার সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ ২৬ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। কাজটির তদারকি করছে শেরপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সড়ক প্রশস্ত করতে একপাশে বিচ্ছিন্নভাবে খনন করা হয়েছিল প্রায় ২৬ মাস আগে। এরপর থেকে ঠিকাদার লাপাত্তা হওয়ায় গুরুত্বপুর্ণ এ সড়কে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। সড়কের এমন অবস্থার কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ভুক্তভোগীরা দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রায় ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ওই সড়কের কাজ শুরু করা হয়। কাজটি পায় বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল এক বছর। রাস্তার উভয় পাশে ১.২৫ মিটার করে প্রশস্ত করার শর্ত ছিল। শর্ত মোতাবেক রাস্তা প্রশস্ত করতে সড়কের একপাশে বিভিন্ন স্থানে খনন করে ঠিকাদার উধাও হয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, সংস্কার কাজটির মূল ঠিকাদার বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড হলেও কাজ করতেন শেরপুরের কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগেই ওই কাজ সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ওই প্রভাবশালী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের আর দেখা যায়নি। প্রভাবশালীরা পলাতক থাকায় কাজ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। ফলে সড়কের সুবিধার চেয়ে অসুবিধায় বেশি পড়েছে পথচারীরা। জানা গেছে, প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে শেরপুর সদর, শ্রীবরদী উপজেলা, জামালপুর জেলার ইসলামপুর ও বকসীগঞ্জ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। সড়কটি কৃষিপণ্য পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় এলাকাবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দা সামিউল, ব্যবসায়ী ফুরকান আলী ও শিক্ষার্থী মহাইমেনুল হক বলেন, “সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। এ দুর্ভোগ সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।” সড়কের কাজ বন্ধ থাকার সত্যতা স্বীকার করে শ্রীবরদী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, “সড়কটির নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই পলাতক ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে দ্রুত নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”