পুঠিয়ায় অনিয়ম অবহেলায় খাস জমি বে-দখল হয়ে আছে

এফএনএস (কে এম রেজা; পুঠিয়া, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
পুঠিয়ায় অনিয়ম অবহেলায় খাস জমি বে-দখল হয়ে আছে

রাজশাহীর পুঠিয়ায় সরকারি খাস জমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনিয়ম অবহেলা ও গাফিলতির কারণে উপজেলা জুড়ে ইজারা না নিয়ে খাস জমির অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। খাস জমি উদ্ধারের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। কেউ আবার জমির ওপর স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সরকার প্রতিবছর রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। সহকারি কমিশনার (ভূমি) অফিস হতে এখনো পর্যন্ত দীর্ঘেিদনর দখল করা ব্যক্তিদের নিকট হতে অবৈধ খাস জমিগুলো উদ্ধার কিংবা সঠিকভাবে জমি চিহ্নিত করণ এবং দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন অনুযায়ী কেউ সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখলে রাখলে বা খাস জমির ওপর কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করলে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদন্ড করার বিধান রয়েছে। উপজেলায় ১৪৯৯.১০ একর খাস জমি রয়েছে। প্রায় সব খাস জমি বে-দখল হয়ে আছে। উপজেলা ও পৌরসভার রাজবাড়ি এলাকার ভিতর বেশকিছু মূল্যেবান খাস জমি ব্যক্তিগত ভাবে দখল করে রেখেছেন। উপজেলা ভূমি অফিসের অনিয়ম অবহেলা ও গাফিলতির কারণে যুগের পর যুগ তারা নির্দ্ধিধায় দখল করে রেখেছেন। এতে করে সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানা হিসাবে দখলদারা ব্যবহার করছেন। খাস চিহ্নিত করে রাখলে সাধারণ মানুষ তা বুঝতে পাড়তেন এটি খাস সম্পত্তি। ভূমির দখলকৃত জমির ওপর স্থায়ী কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু উপজেলার সর্বত্রে খাস জমি ইজারা না নিয়ে একাধিক স্থানে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিন সুমন বলেন, আমরা দশ/বার মিলোমিটার দুর হতে উপজেলা সদরে গিয়ে জমি সংক্রান্ত কোনো কাজ না করে বাড়ি ফিরতে হয়। এসিল্যান্ড অফিসে গেলে নানান অভিযোগ দেখায়ে কাজ না করে হয়রানি করে থাকে। তারা বলেন, আজ হবে না, কাল আসেন। কাল গেলে স্যার নেই। অবশ্য সমঝো হলে আবার দ্রুত জমির যে কোনো কাজ করে দেওয়া হয়। বেলপুকুর ইউনিয়নের আব্দুল কুদ্দুস সোহেল বলেন, সরকারের স্বার্থসৃষ্ট কাজগুলি তারা ধীরগতিতে করে থাকেন। তারপর অফিসের কর্মচারিদের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বেশি একটা গুরুত্ব দেয় না। যে কাজে তাদের টাকা আয় হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সে কাজগুলি দ্রুততার সহিত বাস্তবায়ন করে দেয়। উপজেলা সদরের হোসেন আলি বলেন, উপজেলা এবং পৌরসভার ভিতরে কোটি টাকা মূল্যের বেশ কিছু খাস সম্পত্তি বে-দখল হয়ে আছে। দখলদাররা দীর্ঘদিন যাবত পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন। পৌরসভার এলাকার বেশিরভাগ খাস জমি ইজারা না নিয়ে দখল করে রেখেছে। এতে করে সরকার প্রতিবছর মোটা অংকের রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। বানেশ্বর হাটের ব্যবসায়ী কালাম উদ্দিন বলেন, ফ্যাসিষ্ট সরকার পতনের পর সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বানেশ্বর হাটসহ আরো কয়েকটি হাটের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস বলেন, আমাদের নতুন একটি এলাকায় গিয়ে সবকিছু বুঝে উঠতে সাত/আট মাস সময় লেগে যায়। তারপর অনেক সময় হুট করে বদলি হতে হয়। স্থানীয় ভাবে যে কর্মচারিরা চাকরি করেন। তারা বিভিন্ন সমস্যার কারণে খাস জমি নিয়ে তেমন একটা তৎপরতা দেখায় না। তারপর এখনো পর্যন্ত মব তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে