লক্ষ্ণীপুরে গভীর রাতে

দিঘীতে মাছ ধরায় ২ সহকারী কমিশনারের উপস্থিতি নিয়ে তোলপাড়

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
দিঘীতে মাছ ধরায় ২ সহকারী কমিশনারের উপস্থিতি নিয়ে তোলপাড়

লক্ষ্ণীপুরে গভীর রাতে সরকারি দিঘী থেকে মাছ ধরার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।ভিডিওতে জেলা প্রশাসনের দুই সহকারী কমিশনারের উপস্থিতি দেখা যাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত লক্ষ্ণীপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের ঐতিহ্যবাহী খোয়াসাগর দিঘীতে মাছ ধরার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও হাবিবুর রহমান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫ একর আয়তনের এই দিঘী থেকে দুই টনেরও বেশি মাছ ধরা হয়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১০ লাখ টাকা। ধরা মাছের মধ্যে ছিল কাতল, রুই, চিতল, আইড় ও পাঙ্গাস-যার মধ্যে কয়েকটি চিতল মাছের ওজন ছিল ৭ থেকে ৮ কেজি পর্যন্ত। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মাছগুলো সরকারি গাড়িতে (লক্ষ্ণীপুর-ঠ ১১-০০১৯) তোলা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে আরও একটি সরকারি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-১৩-৩৭৭৮) উপস্থিত ছিল। দুটি গাড়িতে করে মাছগুলো নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান স্থানীয়রা। এ সময় সাংবাদিকরা উপস্থিত হয়ে ভিডিও ধারণ করলে সহকারী কমিশনার শেখ সুমনের কাছে বক্তব্য চাইলে তিনি সেখান থেকে সরে যান। অন্যদিকে সহকারী কমিশনার হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, মাছগুলো ডিসি অফিসে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পরে জানানো হবে। স্থানে জানা গেছে, প্রায় আড়াইশ বছর পুরনো খোয়াসাগর দিঘী একসময় লক্ষ্ণীপুর পৌরসভা থেকে ইজারা দেওয়া হতো। প্রায় এক দশক আগে তৎকালীন জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী দিঘীটি জেলা প্রশাসনের অধীনে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে এর ব্যবস্থাপনা ও ইজারা কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। নীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দিঘীটি ইজারা না দেওয়ায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এমনকি দিনের বেলায় কখনো মাছ ধরা না হলেও রাতের আঁধারে প্রশাসনের উপস্থিতিতে মাছ ধরার ঘটনায় তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন যদি বৈধভাবে মাছ ধরা হয়, তবে রাতের অন্ধকারেই বা কেন?