শিক্ষাবঞ্চিত ৩ গ্রামের শিশু

প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন

চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের  বেরকি, নোয়াপাড়া ও পরানপুর গ্রাম। এলাকার এ তিনটি গ্রামে নেই কোনো স্কুল। ফলে শিক্ষার অভাবে দিনের পর দিন গ্রামগুলোতে বাড়ছে নিরক্ষরের সংখ্যা। দীর্ঘ কয়েক যুগ পেরিয়ে গেলেও সেখানে গড়ে উঠেনি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে প্রতি বছর শিক্ষাবঞ্চিত হচ্ছে প্রায় দুই শতাধিক শিশু। প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা না থাকায় গ্রামের মানুষজন নিরক্ষরই রয়ে যাচ্ছে। ফলে শিশু শ্রম, নির্যাতন, মাদকের ছোবল ও বাল্য বিবাহ দিন দিন বেড়েই চলেছে।  কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তর থেকেই ঝরে পড়ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) নোয়াপাড়া, বেরকী ও পরানপুর গ্রামের কোমলমতি শিশুদের অংশগ্রহণে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিশু ও অভিভাবকরা দ্রুত একটি বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একইসঙ্গে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মোঃ মাহবুবুল আলম পরান। এতে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক মো. কামাল হোসেন মজুমদার এবং খেড়িহর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইমাম হোসেন মজুমদার জুয়েলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আবুল খায়ের, খোরশেদ আলম, বদিউল আলম মজুমদার, আবুল হায়াৎ মিঠু, নূরে আলম মজুমদার, হারুনুর রশিদ, জহিরুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, রুস্তম আলী, কাউসার আলম, জামাল হোসেন, আরিফুল ইসলাম, আবু ইউসুফ সোহাগ, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। স্থানীয়রা জানান, শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ভর্তি করতে হলে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দূরের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। কিন্তু চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য এত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এছাড়া সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে অভিভাবকরাও সন্তানদের দূরে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এমতাবস্থায়  বেরকি, নোয়াপাড়া ও পরানপুর গ্রামের যেকোনো একটি এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান। তাদের মতে, বিদ্যালয় স্থাপন করা হলে এ অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে তিন গ্রামের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভুগি মহল। স্থানীয়রা জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবিতে লিখিত ভাবে আবেদন করা হয়েছে। এবিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জহিরুল ইসলামের মুঠোফোনে সংবাদ মাধ্যম হতে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে