ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ড্রেজার দিয়ে শাপলা বিল থেকে মাটি উত্তোলন করছে একটি সিন্ডিকেট। টেন্ডারের মাধ্যমে সঠিক প্রক্রিয়ায় মাটি কাটার কথা বললেও স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা। তবে আব্দুল হক মেম্বার বলছেন মাটি নাসিরনগর এলাকায় রাখার কথা ছিল। এটি মানছেন না সেখানকার এমপি। এখন সরাইলে ভাড়া জায়গায় রাখা হচ্ছে। উপজেলার শাহজাদাপুর গ্রামের পাশের হাওরের শাপলা বিলে গত--দিন ধরে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। হুমকির মুখে পড়েছে সেখানকার অর্ধশতাধিক একর ইরি ফসলি জমি। প্রভাবশালী ওই সিন্ডিকেটের বিরূদ্ধে মুখ খোলার সাহস করছেন না স্থানীয় কৃষকরা। রহস্যজনক কারণে নীরব স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস। গত ২৫ মার্চ ২০২৬ খ্রি. তারিখে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক সাব্বির মিয়া। গত বৃহস্পতিবার ছবি ও ভিডিওসহ ভাইরাল হয় মাটি উত্তোলনের বিষয়টি। ফুঁসে উঠছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটিকাটা বন্ধ করে দিয়েছেন প্রশাসন।
লিখিত অভিযোগ ও সরজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, শাপলা বিলের বড় অংশ নাসিরনগরের গোকর্ণ মৌজায় পড়েছে। গত বেশ কিছু দিন ধরে ড্রেজারে শাপলা বিলের মাটি কেটে সরাইলের শাহজাদাপুরে ফসলি জমি সংলগ্ন খালি জায়গায় স্তুপ করে রাখছেন আহাম্মদ মিয়া, আব্দুল হক ও রমিজ আলী গংরা। তাদের দাবী বৈধভাবে শাহজাদাপুর গ্রামের একটি সমিতির মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তারা বিলটি ডেকে এনেছেন বাবুল মিয়া নামের এক লোক। তাদের সময় আছে আর মাত্র দুই মাস। তাই তড়িগড়ি করে মাটি কেটে আপাতত সেখানে রাখছেন। কৃষক ও অভিযোগকারীরা বলছেন, মালিককে না জানিয়ে ফসলি জমির উপর দিয়েই পাইপ টানছেন। আবার জমিতেই মাটি রাখছেন। এতে করে ধান কাটার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। বিলের তীরবর্তী জায়গা কাটায় পাশের জমি গুলো গর্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সেখানকার প্রায় অর্ধশতাধিক জমি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। কৃষকরা তাদের জমি ও ফসল রক্ষার জন্য আকুতি করছেন। কৃষক কাশেম মিয়া ও সাব্বির মিয়াসহ অনেকে বলেন, ধানের জমির উপর দিয়ে টানছেন পাইপ। দিনে রাতে জমির উপর দিয়ে যাচ্ছে গাড়ি। মাটিও জমিতে আসছে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অভিযোগকারী সাব্বির মিয়া আরো জানান, উনাকে কিছু না বলেই তৈরী ৪ কানি ইরি জমি মাটি রেখে শেষ করে দিয়েছে। অনেক কৃষক দৌঁড়ে এসে কিছু বলতে চেয়েও থমকে যাচ্ছেন। জনৈক ব্যক্তি বলেন, ইচ্ছা থাকা সত্বেও তারা মাটির ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটের ভয়ে মুখ খুলছেন না। অভিযুক্ত আহাম্মদ মিয়া ও রমিজ আলীর মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি। আব্দুল হক মেম্বার মুঠোফোনে বলেন, আমি ব্যবসায় নেই। ডিসি অফিস থেকে শাহাজাদাপুর পূর্বপাড়ার একটি সমিতির মাধ্যমে খননের টেন্ডার এনেছেন বাবুল মিয়া। সময় আছে মাত্র দুই মাস। ড্রেজারে কাটা মাটি নাসিরনগর এলাকায় রাখার কথা ছিল। সেখানকার এমপি সাহেব নিষেধ করেছেন। তাই এখানে আঙ্গুর মিয়া ও জিতু মিয়ার প্রায় ৪৫ কানি জমি ভাড়া নিয়ে মাটি রাখছেন। বিএনপি করে সরাইলের ২/১ জন লোক ব্যবসায় জড়িত আছে। তাদের সাথে কথা বললে আরো জানতে পারবেন। সকল অভিযোগ সঠিক নয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। এ বিষয়ে কিছুই জানা নেই। তবে এখনই খুঁজ খবর নিয়ে দেখছি। সরাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তারের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ.এস.আই সুজন চন্দ্র মজুমদার ও উপসহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শ্রী কুমদ লালা দেবনাথ ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রেজারে মাটি কাটা বন্ধ করে দেন। এ বিষয়ে তারা নাসিরনগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাহেল আহমেদের সাথেও কথা বলেছেন। তারা জানান, টেন্ডার আনার কোন ধরণের কাগজপত্র উনারা দেখাতে পারেননি। আজকের মধ্যে (শুক্রবারে) সেখান সেখান থেকে সকল সরঞ্জাম সরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তরী বাংলাদেশের আহবায়ক শামীম আহমেদ বলেন, গুটি কয়েক লোকের স্বার্থে যেনতেন ভাবে বিল বা নদী থেকে মাটি উত্তোলন করলে পরিবেশ সুরক্ষা বাঁধাগ্রস্ত হবে। ফসলি জমি ধ্বংস করে মাটি রাখলেও পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ায় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ।