একদিনে হামে ও উপসর্গে আরও ১০ মৃত্যু, ২২ দিনে মৃত ১১৩, বাড়ছে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম | প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
একদিনে হামে ও উপসর্গে আরও ১০ মৃত্যু, ২২ দিনে মৃত ১১৩, বাড়ছে উদ্বেগ

দেশে হামের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে, একদিনেই হামে আক্রান্ত হয়ে দুজন এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে নিশ্চিত ৫৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭৪ জনে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার এই চিত্র। এতে দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণ এখন একাধিক বিভাগে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মৃত্যু ঝুঁকিও বাড়ছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন মারা গেছেন। অন্যদিকে উপসর্গ নিয়ে খুলনা বিভাগে পাঁচজন, রাজশাহী বিভাগে তিনজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৫৪ জন সন্দেহজনক রোগী, যা সংক্রমণের বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৫ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬১০ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ৯২৯ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩ জনে।

সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এখানে মোট ৩ হাজার ২৫৯ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৬৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায়ও সর্বোচ্চ ৩৯২ জন সন্দেহজনক রোগী পাওয়া গেছে এই বিভাগে, এবং নিশ্চিত শনাক্ত হয়েছে ৩৮ জন।

এই পরিস্থিতিতে সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম চালু হয়েছে। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “দেশে হামের যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, তা করোনা মহামারির চেয়ে কোনোভাবেই কম উদ্বেগজনক নয়।” তিনি আরও বলেন, “অতীতের ভুল ব্যবস্থাপনার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১২ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম চালানো হবে। এরপর ৩ মে থেকে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণই এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মূল উপায় হতে পারে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে