হামের প্রাদূর্ভাব প্রতিরোধে দ্রুত উদ্যোগ নিন

এফএনএস
| আপডেট: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম | প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
হামের প্রাদূর্ভাব প্রতিরোধে দ্রুত উদ্যোগ নিন

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যখাতে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা না দেওয়ার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। টিকা না দেওয়ার পেছনে রয়েছে টিকার স্বল্পতা, বিশেষ ক্যাম্পেইন না হওয়া ও টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে অনীহা। দেশে হাম পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ৯৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ দিনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪ জনে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, বরগুনা, মাগুরা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে প্রথমে জ্বর ও ঠান্ডা দেখা দিচ্ছে, এরপর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বের হচ্ছে। অনেক অভিভাবক শুরুতে বিষয়টিকে সাধারণ অসুখ মনে করে অবহেলা করায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডঐঙ) তথ্যমতে, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ১৯০ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৬৭৬ জনের শরীরে ভাইরাসের নিশ্চিত উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে দেশের ৫৬টি জেলায় এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।  ২০২০ সালের মধ্যে হাম নির্মূল সম্ভব হবেু একসময় এমন আশা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সাল করা হলেও সেই লক্ষ্য পূরণ তো দূরের কথা, বরং বাস্তবতা এখন উল্টো চিত্র দেখাচ্ছে। দেশে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হামের সংক্রমণ, যার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য, হাসপাতালভিত্তিক মৃত্যুর হিসাব, টিকাদান কভারেজের সামপ্রতিক পতন এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে এটিই এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, বাংলাদেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতি বিচ্ছিন্ন কোনো রোগের প্রবণতা নয়, বরং এটি দুর্বল হয়ে পড়া প্রতিরোধ ব্যবস্থা, টিকাদান ঘাটতি ও নীতিগত শৈথিল্যের একটি বড় সতর্ক সংকেত। সবচেয়ে গুরুতর অবস্থা রাজশাহীতে। হামের উপসর্গ ওই বিভাগের হাসপাতালগুলোতে প্রতিনিয়ত শিশুরা ভর্তি হচ্ছে। ১৮ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৫৩ জনের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করেছে, যেখানে ৪৪ জনের হাম পজিটিভ এসেছে। এ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজে আলাদা আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে। হামে একটি শিশুর মৃত্যুও আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা চাই না আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা নীতিগত ভুলের কারণে আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক। সরকারের উচিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত উচ্চমানের টিকাদান ক্যাম্পেইন সম্পন্ন করা এবং ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্টসহ সঠিক রোগী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।