বিচারহীনতায় বাড়ছে মানব পাচার, কার্যকর উদ্যোগ নিন

এফএনএস
| আপডেট: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম | প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
বিচারহীনতায় বাড়ছে মানব পাচার, কার্যকর উদ্যোগ নিন

সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ কর্মের মধ্যে মানবপাচার অন্যতম। মানবপাচারকে সভ্যতা বিবর্জিত জঘন্যতম অপকর্মও বলা যায়। দাসপ্রথা অনেক আগেই উঠে গেছে। কিন্তু উদ্ভাবন হয়েছে দাস প্রথার নব্য সংস্করণ। মানব পাচার মূলত নারী এবং শিশু পাচারকে ইঙ্গিত করে থাকে। মানবপাচার একটি সামাজিক ব্যাধিও বটে। আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী মানবপাচার হচ্ছে, মানুষের অধিকারের লঙ্ঘন। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, মানবপাচার অর্থ, কোনো ব্যক্তিকে ভয় দেখিয়ে, বল প্রয়োগ বা প্রতারণার মাধ্যমে তার আর্থসামাজিক, পরিবেশগত বা অন্যকোনো অসহায়ের সুযোগ নিয়ে এবং টাকা পয়সার বিনিময়ে বা অন্য কোনো সুবিধা লাভের জন্য তাঁর ওপর নিয়ন্ত্রণ আছে এমন কারো সম্মতি নিয়ে এবং বাংলাদেশের ভিতরে বা বাইরে যৌন শোষণ অথবা অন্য কোনো শোষণ বা নিপীড়নের উদ্দেশ্যে ক্রয় বা বিক্রয়, সংগ্রহ বা গ্রহণ, নির্বাসন বা স্থানান্তর, চালান বা আটক করা বা লুকিয়ে রাখা বা আশ্রয় দেয়া। কোনো দেশের আইন মানবপাচারের পক্ষে না। বরং একে ঘৃণ্য কার্যক্রম হিসেবে গণ্য করা হয়। মানবপাচার দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে হয়ে থাকে। এর তিনটি সাধারণ ধরন রয়েছে যেমন যৌন ব্যবসা, জোরপূর্বক শ্রম এবং গার্হস্থ্য দাসত্ব। মানবপাচার থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান অর্থনৈতিক খাতগুলো হলো কৃষি, রেস্তোরাঁ, উৎপাদন, গার্হস্থ্য কাজ, বিনোদন, আতিথেয়তা এবং বাণিজ্যিক যৌন শিল্প। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা জানান, মানব পাচারের বিপুলসংখ্যক মামলা হলেও সাজাপ্রাপ্তির হার অত্যন্ত কম। বিচারহীনতার কারণে অপরাধীরা জামিনে বেরিয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়াচ্ছে। ফলে দেশের অভিবাসন খাত ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আমাদের দেশে পশ্চাৎপদ এলাকার কিছু সংখ্যক মানুষ মনে করে, একবার বিদেশে পাড়ি জমাতে পারলেই ভাগ্য বদলে যাবে। মানুষের এ ধরনের ভাবনা থেকে প্রতারণার শিকার হয়। অধিক জনসংখ্যা, অসচেতনতা, দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব, দ্রুত নগরায়ণ, মাদক ও যৌন ব্যবসা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম শিশু ও নারী পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করেছে। আবার সুখী ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে পড়ে আশ্রয়হীন, অসহায় ও হতাশাগ্রস্ত শহরমুখী নারী ও শিশুরাও পাচারের কবলে পড়ে। একশ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ী চক্র নারী ও শিশুদের চাকরি, বিবাহ, ভালোবাসা বা অন্য কিছুর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বিদেশে পাচার করে চলেছে। বছরের পর বছর এসব পাচারকৃত নারী ও শিশু শারীরিক ও যৌন নির্যাতন সহ্য করছে এবং ব্যবহৃত হচ্ছে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। মানব পাচার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। শুধু দেশের আইন প্রয়োগে হবে না, আন্তর্জাতিক সমন্বয় জরুরি।’ সেই সঙ্গে সবাইকে আরও অধিক সচেতন হতে হবে।