সড়ক নিয়ে সংসদে তর্ক, মন্ত্রীর জবাবে অসন্তুষ্ট মনিরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
সড়ক নিয়ে সংসদে তর্ক, মন্ত্রীর জবাবে অসন্তুষ্ট মনিরুল
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুললেও সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, মন্ত্রী আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের মতোই উত্তর দিয়েছেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মনিরুল হক এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-নোয়াখালী সংযোগস্থলের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি।

নোটিশে বলা হয়, ওই এলাকায় অবৈধ ব্যারিকেড, টমছম ব্রিজসহ অন্তত সাতটি স্থানে আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেন না থাকায় পুরো অঞ্চলটি কার্যত ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। এ অবস্থার প্রতিকার চেয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

সম্পূরক প্রশ্নে মনিরুল হক চৌধুরী প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সেখানে আন্ডারপাস কোথায় গেল? অনুমোদিত ওভারপাসটি কেন হলো না?” তিনি আরও বলেন, “২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর এত লোক মারা গেল, কিন্তু একজনও ক্ষতিপূরণ পায়নি।”

মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মন্ত্রী মহোদয় বললেন, ওভারপাস হবে, এক্সপ্রেসওয়ে হবে, এ রবীন্দ্র সংগীত বহু শুনেছি। আমাদের শান্তিমতো মরতে দেন। উনার প্রতিটি কথা সচিবেরা যা বলে দিয়েছে, যারা টাকা লুণ্ঠন করেছে, তারা শিখিয়ে দিয়েছে, সেটাই তিনি বলেছেন। আমি এর প্রতিবাদ করছি।”

জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রকল্পটি আগের সরকার থেকেই চলমান। “আমরা শুধু নকশা পরিবর্তন করে এবং বাজেট সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নিচ্ছি,” বলেন তিনি। তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ১০ লেনে উন্নীত করার সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে এবং নতুন পরিকল্পনায় কয়েকটি আন্ডারপাস নির্মাণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, “সরকার নতুন এসেছে। সংসদ সদস্য বিষয়টি জানানোর পর সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।”

একপর্যায়ে স্পিকার জানতে চান, এসব পদক্ষেপে সমস্যার সমাধান হবে কি না। জবাবে মন্ত্রী সংক্ষেপে বলেন, “আংশিক হবে।”

সংসদের আলোচনায় সড়ক নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত ঘাটতির বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে