লক্ষ্ণীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল, ত্রিমুখী সংঘর্ষে ওসিসহ আহত ২০

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
লক্ষ্ণীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল, ত্রিমুখী সংঘর্ষে ওসিসহ আহত ২০

লক্ষ্ণীপুর পৌর শহরে জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে মিছিলকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, পুলিশ ও ‘জুলাই যোদ্ধা ফোর্স’-এর নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।সংঘর্ষ চলাকালে আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের চকবাজার জামে মসজিদের সামনে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জনসাধারণকে অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার এবং সব ধরনের জমায়েত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান ফাহিম ও ছাত্রদল নেতা আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ফাহিম আহত হন। এর প্রতিবাদে রোববার বিকেলে উভয় পক্ষ চকবাজার এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে লক্ষ্ণীপুর পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন, যা সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে। ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা চকবাজার জামে মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল বের করার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ জানায়, মিছিলকারীরা আইন অমান্য করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করা হয়। এ সময় শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে ‘জুলাই যোদ্ধা ফোর্স’-এর ব্যানারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে যোগ দিলে সংঘর্ষ ত্রিমুখী রূপ নেয়। উভয়পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় ওসি মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া বিভিন্ন পক্ষের নেতাকর্মী ও অন্তত পাঁচজন পথচারীসহ মোট প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের লক্ষ্ণীপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন,১৪৪ ধারা জারি থাকার পরও একটি পক্ষ আইন অমান্য করে মিছিল বের করার চেষ্টা করে। পুলিশ বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ বলেন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করেছে। ১৪৪ ধারা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।