‘আয়নাঘর’-এর শিকার আরমানের আবেগঘন ভাষণ, গুম আইন নিয়ে সংসদে তর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
‘আয়নাঘর’-এর শিকার আরমানের আবেগঘন ভাষণ, গুম আইন নিয়ে সংসদে তর্ক

জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যেখানে তিনি জীবনের শঙ্কা এবং অন্ধকার ঘরের আতঙ্কের কথা প্রকাশ করেন। রোববার (৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ সংসদের অষ্টম অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন তিনি। আরমান বলেন, “মৃত্যুর প্রহর গুনছিলাম সেই অন্ধকার ঘরে। মনে হতো জীবন্ত কবরে আছি। বাইরে দিন না রাত, কিছুই বুঝতে পারতাম না। ভেবেছিলাম হয়তো ওখানেই মৃত্যু হবে।”

তিনি আরও বলেন, “একদিন রাতে যখন আমাকে বের করা হচ্ছিল, ভেবেছিলাম এখন আমাকে হত্যা করা হবে। আমি সূরা ইয়াসিন পাঠ শুরু করেছিলাম যাতে মৃত্যুটা সহজ হয়। পরে জানতে পারলাম কিছু কিশোরের জীবন ঝুঁকির বিনিময়ে আমাদের আবারও দুনিয়ার আলো দেখার সুযোগ হয়েছে।” তিনি সংসদে প্রশ্ন তোলেন, কেন মানবাধিকার রক্ষার জন্য সুপারিশকৃত গুম প্রতিরোধ আইন বাতিলের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, “ওনারা যে আইন নিয়ে হইচই করছেন, সেটা হয়তো ভালো করে দেখেননি। আইসিটি অ্যাক্ট ১৯৭৩-এ গুমকে ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি হিসেবে ধরা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু বর্তমান অর্ডিন্যান্সে সাজা মাত্র ১০ বছর। এটি গুমের শিকারদের প্রতি এক ধরনের অবিচার।” তিনি আরও বলেন, “গুমের তদন্ত নিয়ে দ্বিমুখী নীতি তৈরি হয়েছে। একদিকে আইসিটি অ্যাক্টে তদন্তের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে গুম আইনে ভিন্ন তদন্তের কথা বলা হচ্ছে। এই অবস্থায় আইনের সংস্কার না হলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকাররা সঠিক বিচার পাবেন না।”

রোববার (৫ এপ্রিল) আইনমন্ত্রী সংসদে জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ চলতি অধিবেশনের মাঝামাঝি বা পরবর্তী সময়ে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, “এই দুই আইন আরও যুগোপযোগী, জনকল্যাণমুখী এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সুনির্দিষ্টভাবে বিল আনা হবে, যাতে অপরাধীরা কোনোভাবেই ছাড়া না পায়।”

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে বলেন, “সংসদে এমন একটি কঠোর আইন পাস করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে আর কাউকে গুম বা খুনের শিকার হতে না হয়।” অধিবেশনে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যরা একমত পোষণ করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে