কম্বোডিয়ার উচ্চ বেতনে চাকরি ফাঁদ

গজারিয়া দালাল চক্রের প্রতারনায় নি:স্ব শত পরিবার

এফএনএস (মোঃ আমিরুল ইসলাম নয়ন; গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ) : | প্রকাশ: ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
গজারিয়া দালাল চক্রের প্রতারনায় নি:স্ব শত পরিবার

কম্বোডিয়া কেসিনিয়াতে উচ্চ বেতনে চাকরি  প্রলোভন দেখিয়ে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় শত শত যুবকের সর্বস্বান্ত করার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। দালাল দের খপ্পরে পড়ে একটি পরিবারের ৯ থেকে ১৪ লাখ টাকা খুইয়ে এখন পথে বসার উপক্রম। প্রতিদিন অসংখ্য ভুক্তভোগী প্রতিকারের আশায় গজারিয়া থানায় ভিড় করেছে। শুধুমাত্র দশজন ভুক্তভোগী গজারিয়া থানায় অভিযোগ নিয়ে এসেছে বলে জানা গেছে। 

ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতারণার ধরন সব ক্ষেত্রে একই ধরন আকর্ষণীয় বেতনের কথা বলে প্রথমের যুবকদের আকর্ষণ করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়ে এক বছরের মেয়াদী ভিসার কথা বলে পাঠানো হয় কম্বোডিয়ায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরেই শুরু হয় আসল বিভীষিকা। বিমানবন্দরে নামার পর এক দালাল তাদেরকে অন্য দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। এভাবে অনেকে ৪-৫ বার পর্যন্ত হাতবদল করা হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, সেখানে  যাওয়ার পর দেখা যায় এক বছর নয় বরং এক মাসের ভিজিট ভিসা  দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কাজ দেওয়ার পরিবর্তে তাদের অন্ধকার ঘরে আটকে রাখে চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন এই নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের দেখিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে আরো লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। 

কম্বোডিয়ার দালাল চক্রের হাতে আটকে পড়া গজারিয়া তরুণ মেহেদী হাসান অভি মোবাইলে জানান এখানে আসার পর এক দালাল আমাদের অন্য দালালে বিক্রি করে দেয়। এভাবে অনেকেই ৪-৫ বার করে বিক্রি হয়েছে। কাজ না করে রুমে আটকে রেখে মাইধর করে পরিবারকে টাকা আনতে বাধ্য করা হয়। কথা না শুনলে মাইধর করে ভিডিও করা হয় এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। দালাল চক্রের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে সম্প্রতি দেশে ফেরা ভিটিকান্দি গ্রামের তরুণ লাজিম প্রধান তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে দূরে বলেন মাসিক ১ লাখ   টাকা বেতনের কথা বলে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি আমরা বন্দি এক মাসের ভিজিট ভিসা নিয়ে আমাদের আটকে রাখা হয়। পরে দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে প্রাণ বাঁচিয়ে দেশে ফিরে আসি। একই চিত্র ফুটে ওঠে সিএনজি চালক শফিকের আর্তনাত। তিনি জানান ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় সুদে টাকা এনে দালালদের ৯ লাখ টাকা দিয়েছি এখন তার ছেলে রিক্ত দেশে হেনস্থ হয়ে ফিরছে। আর তিনি ঋণে যর্জিত হয়ে পথে বসেছি। ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যের অনুযায়ী এই চক্রের সাথে সংশ্লিষ্ট হিসাবে মারুফ, রাজেন, সাকের, রহিমা বেগম,  আকাশ, রিফাতসহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে অভিযুক্ত একজন মারুফ দাবি করেন তারা কাউকে কলম্বিয়ায় যেতে বাধ্য করেনি। কাজ না পেয়ে সম্পত্তি দেশে ফিরে আসা কয়েকজনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আচ্ছা দেওয়া হয়েছে।  এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অভিসার ইনচার্জ মো: হাসান আলী বলেন বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দিয়েছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণভাবে তদন্ত করে  বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নিব এবং যদি তোদের বিরুদ্ধে আইন আনুক ব্যবস্থা নিব।  গজারিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল হাসান বলেন প্রতারণা থেকে বাঁচতে জনসচেতনার বিকল্প নেই বিদেশগামীদের প্রতি আহ্বান আপনারা অবশ্যই বৈধ প্রক্রিয়ায় এবং নিয়ম কারণ জেনে  বিদেশ যাবেন। দালালদের খপ্পর থেকে বাঁচতে চোখ কান খোলা রাখা জরুরী।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে