লক্ষ্ণীপুরে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

জুলাই ফাইটার্স ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের মুখোমুখি অবস্থান

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
জুলাই ফাইটার্স ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের মুখোমুখি অবস্থান

লক্ষ্ণীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদল সমর্থিত ‘জুলাই ফাইটার্স’-এর মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। সোমবার (আজ) দুপুরে লক্ষ্ণীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জুলাই ফাইটার্স। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনটির নেতা নাসিরুজ্জামান রাহাত। তিনি অভিযোগ করে বলেন,

“রোববার আমাদের কর্মসূচিতে পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে। ১৪৪ ধারা জারির পরও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা কর্মসূচি চালিয়ে যায়। তারা শহরে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং পুলিশের ওপরও হামলা চালিয়েছে।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন আব্দুল আজিজ ও সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা। রাহাত আরও দাবি করেন, রোববার ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচি ছিল না, বরং জুলাই ফাইটার্সের কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করতেই প্রতিপক্ষ মাঠে নামে। এর আগে রোববার রাত ১০টার দিকে লক্ষ্ণীপুর প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এতে বক্তব্য দেন জেলা আহ্বায়ক আরমান হোসাইন, মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিয়ান রায়হান ও সদস্য হাবিবুর রহমান ফাহিমসহ অন্যান্য নেতারা।

আরমান হোসাইন বলেন,

“আমাদের কর্মী ফাহিমের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম, সেখানে অযৌক্তিকভাবে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।” মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, “১৪৪ ধারা জারির আগে আমরা ঘটনাস্থলে ছিলাম এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম। হঠাৎ করে ছাত্রদল সমর্থিত লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়, এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।” জানা যায়, গত শনিবার রাতে পৌর এলাকার হাসপাতাল রোডে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে রোববার চকবাজার এলাকায় একই সময় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে প্রশাসন ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। তবে তা উপেক্ষা করে মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে সদর থানার ওসি মো. ওয়াহিদ পারভেজসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। লক্ষ্ণীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, “পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।” তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। তবে কেউ আইন ভঙ্গ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে