সিলেটে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ২১ এপ্রিল মামলার যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র। এরপরই বিচারপ্রক্রিয়া রায়ের পর্যায়ে যাবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে হাজির হয়ে শুনানিতে অংশ নেন আসামিরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শ্রম, কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সরকারদলীয় সাবেক হুইপ জি কে গৌছ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অন্য আসামিরা।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানিমূলকভাবে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা জানান, প্রাথমিক এজাহারে তাঁদের নাম ছিল না; পরবর্তীতে সম্পূরক অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ও সিলেট বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, মামলায় উপস্থাপিত ৬৭ জন সাক্ষীর কেউই আসামিদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা বলেননি। ফলে পর্যাপ্ত ও জোরালো প্রমাণের অভাবে আসামিরা খালাস পাবেন বলে তাঁদের প্রত্যাশা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হওয়ায় মামলাটি এখন যুক্তিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণা করবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে এক রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পরে ২০২০ সালে সম্পূরক অভিযোগপত্রে আলোচিত তিন নেতাসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়।