বাগমারায় বিধবা সাবিত্রী বালার শেষ সম্বল আগুনে পুড়ে ছাই

এফএনএস (বাগমারা, রাজশাহী) | প্রকাশ: ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
বাগমারায় বিধবা সাবিত্রী বালার শেষ সম্বল আগুনে পুড়ে ছাই
৪০ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন, শিশু কন্যাকে নিয়ে কোনোরকম স্বামীর বাস্তুভিটাতেই আছেন সাবিত্রী বালা (৬৮)। মেয়ে বড় হলে বিয়েও দেন। একাকী স্বামীর ভিটায় একটি খুঁপড়ি ঘরে থাকতেন, গবাদিপশু পালন করে। কয়েলের আগুনে পুড়ে পড়ে মারা গেছে শেষ সম্বল একজোড়া গরু। ভস্মীভূত হয়েছে ঘর। শেষ সম্বল রক্ষা করতে গিয়ে নিজেও দগ্ধ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন সাবিত্রী বালা। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বাগমারার চাঁন্দেরআড়া হিন্দুপাড়ায় গত সোমবার দিবাগত রাতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গোয়াল ঘরে একজোড়া গরু রেখে পাশে খুঁপড়ি ঘরে ঘুমাতে যান। এর আগে গোয়ালঘরে মশার কামড় থেকে রক্ষার জন্য কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে কয়েলের আগুন থেকে গোয়ালঘরে আগুন ধরে যায়। পাশের ঘর থেকে আগুনের উত্তাপে বৃদ্ধার ঘুম ভেঙে যায়। এসময় তিনি চিৎকার শুরু করেন এবং চোখের সামনে পুড়তে দেখা গর্ভবতী একটি গাভীকে উদ্ধার করতে গোয়ালঘরে ঢুকে পড়েন। গাভীটিকে উদ্ধার করতে যাওয়া বৃদ্ধা সাবিত্রী দগ্ধ হয়ে ফিরে আসেন। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভাতে সক্ষম হন, তবে গোয়াল ঘরে থাকা গরু দুইটি পুড়ে মারা যায়। পরে লোকজন দগ্ধ সাবিত্রী বালাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে গোয়ালঘরে পুড়ে যাওয়া দুইটি গরু পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশের বৃদ্ধার খুঁপড়ি ঘরে আলু, কিছু চাল ও ব্যবহারের কিছু পোশাক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রতিবেশী যোগেন্দ্রনাথ জানান, সাবিত্রী বালা খুবই অসহায়। এই পৃথিবীতে আপন বলতে এক মেয়ে ছাড়া কেউ নাই। বাঘাতে বিয়ে হয়েছে, সেখানেই থাকে। স্বামীর মৃত্যুর পর একাকী স্বামীর বশত ভিটায় বসবাস করছেন। হাঁস মুরগী, গরু ছাগল পালন করে চলতেন। আরেক প্রতিবেশী স্বপন কুমার বলেন,' সাবিত্রী বালা স্বামীর ভিটা ছেড়ে কোথাও যাননি। এলাকার লোকজন সহযোগিতা করে মাঝেমধ্যে। একমাত্র অবলম্বন ছিল দুইটা গরু। সেটাও চলে গেল, সঙ্গে খুঁপড়ি ঘরও।' হাসপাতালে থাকা সাবিত্রীর মেয়ে (৪১) জানান, মায়ের শরীর পুড়ে গেছে, চিকিৎসা হচ্ছে। অবস্থা ভালো না বলে ডাক্তারেরা বলেছে। বাগমারা ফায়ারস্টেশনের লিডার ইব্রাহিম হোসেন জানান, তাদের জানানো হয়নি। ঘটনাটি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি দুঃখজনক। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে