কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঘারমোড়া বাজারের ইজারা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন আলোচনা-সমালোচনা। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বাজারটির ইজারা দর কমেছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। বাজারের আয়তন বা ব্যবসায়িক পরিধি অপরিবর্তিত থাকলেও সরকারের বিপুল অংকের এই রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরে ঘারমোড়া বাজারের ইজারা পেয়েছেন ঘারমোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু মুসা। ভ্যাট ও আয়কর ব্যতিরেকে এবার গত তিন বছরের ইজারা দর গড় করে বাজারটির ইজারা মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৭৫ টাকা। অথচ গত বছর (পূর্ববর্তী অর্থবছর) একই বাজারের ইজারা মূল্য ছিল ১ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১০০ টাকা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ বছর ইজারা প্রক্রিয়ায় কোনো কার্যকর প্রতিযোগিতা ছিল না। সোমবার ছিল দরপত্র জমা ও দরপত্র খোলার শেষ তারিখ। এদিন মাত্র ৬ হাজার টাকা বেশী যোগ করে ৬১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৫ টাকা দর দিয়ে দরপত্র জমা দেওয়া হয়। সেই হিসেবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ইজারা মূল্য কমেছে ৪৯ লাখ ৭৪ হাজার ২৫ টাকা, যা প্রায় অর্ধকোটি টাকার সমান। ফলে বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ওই দরেই বাজারটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার সবচেয়ে বড় এই বাজারে বেচাকেনা বা রাজস্ব আদায়ের উৎস কমেনি, বরং বেড়েছে। এমন অবস্থায় ইজারা দর প্রায় অর্ধেক নেমে আসায় স্থানীয়রা বিস্মিত। অনেকের মতে, অভ্যন্তরীণ সমঝোতার কারণেই প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র জমা পড়েনি, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সরকারি কোষাগারে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গত তিন বছরের ইজারা মূল গড় করে উক্ত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যথাযথ নিয়ম মেনেই তিন দফা দরপত্র আহবান করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেওয়া হয়েছে।