সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপি'র

দুর্বল ও অকার্যকর কমিটি দিয়ে নির্বাচন করায় বিএনপি প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি

এফএনএস (জহিরুল ইসলাম; সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
দুর্বল ও অকার্যকর কমিটি দিয়ে নির্বাচন করায় বিএনপি প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ক্ষোভ ও নেতৃত্ব সংকট অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে। নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে ঘিরে আয়োজিত এক সম্বর্ধনা সভায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা পূর্ববর্তী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পারিবারিক প্রভাব ও ব্যক্তিকেন্দ্রিকভাবে দল পরিচালনার অভিযোগ তুলে সংগঠনকে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে সীতাকুণ্ড পৌরসভা চত্বরে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সম্বর্ধনা সভায় নবনির্বাচিত আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর, যুগ্ম আহ্বায়ক সালামত উল্লাহ, সদস্য সচিব মো. মোরসালিন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব ফজলুল করিম চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

উপজেলার ১ নম্বর ইউনিয়ন থেকে ১০ নম্বর সলিমপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সভায় উপস্থিত থেকে নতুন কমিটির প্রতি সমর্থন জানান এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী নেতৃত্বের সময় উপজেলা বিএনপি দীর্ঘদিন ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও পারিবারিক প্রভাবাধীনভাবে পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ করে ২০২১ সালে গঠিত ইউনিয়ন কমিটিগুলো দলীয় গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে সীমিত ভোটারভিত্তিক পদ্ধতিতে গঠন করা হয়, যা সংগঠনকে দুর্বল ও অকার্যকর করে তোলে। এর ফলে দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয় এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ জমে ওঠে।

নবনির্বাচিত আহ্বায়ক ডা. কমল কদর বলেন, দুর্বল ও অকার্যকর কমিটি দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার কারণে আমরা প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারিনি। এখন সময় এসেছে তৃণমূল থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করার এবং একটি কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার।

সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর বলেন, ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠনের কারণে দলের ভেতরে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় নির্বাচনেও পড়েছে।

জানা যায়, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের  সংসদ সদস্য অধ্যাপক লায়ন আসলাম চৌধুরীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে পূর্বের আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

সম্বর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সদস্য সচিব মোহাম্মদ মোরসালিন বলেন, ৫ আগস্টের পর হঠাৎ করে অনেক ‘নতুন বিএনপি’ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু যারা বিগত সময়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেই ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবদান আমরা কখনো ভুলবো না। ভবিষ্যতে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের গুরুত্ব দিয়ে দলকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সংগঠনকে গতিশীল করতে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

যুগ্ম আহ্বায়ক সালামত উল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও বিভক্তি কাটিয়ে উঠে এখন ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে তৃণমূলকে সক্রিয় করে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

যুগ্ম সদস্য সচিব ফজলুল করিম চৌধুরী বলেন, দলীয় বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই এখন সময়ের দাবি। ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে সংগঠনকে সুসংগঠিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সম্বর্ধনা সভা থেকে নেতাকর্মীরা দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপিকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে