ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেসে রুয়েট শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় স্থান অর্জন

এম এম মামুন; রাজশাহী | প্রকাশ: ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেসে রুয়েট শিক্ষার্থীর  দ্বিতীয় স্থান অর্জন
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক গবেষণাদলের গবেষণাকর্ম জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘ষষ্ঠ ইয়াং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেসে’ অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তিন সদস্যের একটি দল দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। গত শনিবার ও রবিবার (৪-৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এ কংগ্রেসে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে তরুণ বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক গবেষণা, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সেশন, প্যানেল আলোচনা ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। কংগ্রেসের ‘ফিজিক্যাল, কেমিক্যাল, ন্যাচারাল রিসোর্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স’ ক্যাটাগরিতে পোস্টার প্রেজেন্টেশন ইভেন্টে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন রসায়ন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. মসফিকুর রহমান মারুফ। তার গবেষণা সম্পন্ন হয় রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আল আমিন আল আজাদউল ইসলামের নির্দেশনায় এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুয়েল হোসেনের তত্ত্বাবধানে। মারুফের গবেষণার বিষয় ছিল ‘কম্পিউটেশনাল ইনভেস্টিগেশন অব অ্যানোডিক ক্লোরিন ইভোলিউশন রিয়েকশন ওভার ঝরঘ₄ কো-ডোপ্ট গ্রাফিন ইলেক্ট্রোক্যাটালিস্ট’। গবেষণায় ডেনসিটি ফাংশনাল থিওরি (ডিএফটি) ব্যবহার করে ঝরঘ₄ কো-ডোপ্ট গ্রাফিনভিত্তিক নতুন প্রজন্মের একটি ইলেক্ট্রোক্যাটালিস্টে অ্যানোডিক ক্লোরিন ইভোলিউশন রিঅ্যাকশন (সিইআর) বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুয়েল হোসেন জানান, ক্লোরিন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কাঁচামাল, যা পলিমার, ফার্মাসিউটিক্যাল, টেক্সটাইল ও কাগজ শিল্পে এবং পানি পরিশোধনে জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে ক্লোরিন উৎপাদনে প্রচলিত পদ্ধতি অত্যন্ত শক্তি-নির্ভর, ব্যয়বহুল এবং নোবেল-মেটালের ওপর নির্ভরশীল। এ গবেষণায় পরিবেশবান্ধব, কম খরচের ও মেটাল-ফ্রি কার্বনভিত্তিক ন্যানোম্যাটেরিয়ালকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা কম ওভার পটেনশিয়ালে উচ্চ কার্যকারিতায় ক্লোরিন উৎপাদনে সক্ষম। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ গবেষণা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। দেশে উৎপাদন শিল্পে ক্লোরিনের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। সাশ্রয়ী ও দক্ষ প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে ক্লোরিন উৎপাদন সম্ভব হলে তা আমদানি নির্ভরতা কমাবে, শিল্পখাতে স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়ক হবে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে। রুয়েট শিক্ষার্থীর এ অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি ভবিষ্যতেও তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে