শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার অংশ হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একইসঙ্গে স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারি পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে ঢাকা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি জানান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে একটি কমিশন গঠনের চিন্তা রয়েছে। সেই কমিশনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন করা গেলে শিক্ষাব্যবস্থার মান আরও উন্নত হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আপনি যখন শিক্ষক ছিলেন, তখন যিনি প্রধান শিক্ষক ছিলেন তাকে ‘স্যার’ বলতেন। এখন আপনি প্রধান শিক্ষক, আর তিনি অবসরপ্রাপ্ত। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো গেলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারি পদ্ধতি নিয়ে চলমান সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, “লটারি কখনোই মেধাবী ও অমেধাবী নির্ধারণ করতে পারে না। এটি ধনী-গরিবের বৈষম্যও কমায় না।” তিনি আরও দাবি করেন, লটারির মাধ্যমে ভর্তি হলেও বাস্তবে কতজন প্রকৃতভাবে সুযোগ পান এবং কতজন তদবিরে ভর্তি হন, সে বিষয়ে তার কাছে তথ্য রয়েছে। তার মতে, “লটারি পদ্ধতি স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা দেয় না।”
শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাদানের মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা যথাযথভাবে পাঠদান না করায় অভিভাবকরা সন্তানদের জন্য আলাদা শিক্ষক বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করছেন। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার ওপর জোর দেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও কেন অভিভাবকরা নিজ এলাকার স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করাতে চান না। এর জন্য শিক্ষকদের দায় আছে কি না, সেটিও ভাবার বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির। এতে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।