গাবতলীতে ফ্যামিলি কার্ড তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

এফএনএস (মো: আমিনুর ইসলাম; গাবতলী, বগুড়া)‎: | প্রকাশ: ৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
গাবতলীতে ফ্যামিলি কার্ড তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

বগুড়ার গাবতলীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে সুপাৃরভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতার পরিবারের সদস্যদের নাম থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে একজন প্রার্থীকে এক ইউনিয়নের পরিবর্তে অন্য ইউনিয়নে এবং একই ব্যক্তিকে একাধিক পদে নির্বাচিত করা হয়েছে ও স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকজন কর্মচারীর স্বজনদের নির্বাচিত করার অভিযোগও উঠেছে যাচাই বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে।

‎শুক্রবার (৮ আগস্ট) ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অভিযোগকারীরা বলেন, নির্বাচিতদের তালিকায় সুখানপুকুর ইউনিয়নের আল আমিনের নাম রয়েছে, তিনি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের অন্যতম কর্মী ছিলেন।

‎উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুপারভাইজার পদে ১৯২ জন ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। অভিযোগকারী মোরসেদুল ইসলাম বলেন, উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের এক নেতার মেয়ে শামীমা খাতুন, একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগনেতা প্রয়াত সুরুজ্জামানের মেয়ে মুমিনা আক্তারের নামও তালিকায় রয়েছে ।

‎ফলাফল তালিকায় দেখা যায়, এক ইউনিয়নের প্রার্থীকে অন্য ইউনিয়নে নির্বাচিত করা হয়েছে, এছাড়াও একই ব্যক্তিকে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নির্বাচিত করা হয়েছে।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ও সমাজসেবা কার্যালয়ের অফিস সহায়কের নিকটাত্মীয় রয়েছে। কমিটির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন নিয়োগ বঞ্চিতরা। নিয়োগ প্রক্রিয়া অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফেসবুক পোস্টে, নাড়ুয়ামালা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আরিফ হোসেন  লিখেছেন, নিয়োগে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। তিনি এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। গাবতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান বলেন, আমরা নিয়মানুযায়ী প্রার্থীদের নির্বাচিত করেছি। এ বিষয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। গাবতলী  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, চূড়ান্ত তালিকায় কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে সংশোধনের করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে