রাজশাহীর তানোর উপজেলার শিবরামপুর এলাকায় কালীমাতার নামে রেকর্ডভুক্ত দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এবং সেখানে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন বাসিন্দা।
অভিযোগকারীদের দাবি, তানোর উপজেলার শিবরামপুর মৌজায় কালীমাতার নামে প্রায় ৫ একর ৪ শতাংশ জমি দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। ওই সম্পত্তির একটি অংশ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভোগদখল করে আসছেন। একই এলাকায় কালীমাতার মন্দিরে নিয়মিত পূজা-অর্চনাও হয়ে আসছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শিবরামপুর মৌজার সিএস খতিয়ান নম্বর ১৩৭ ও ১৩৮ এবং আরএস খতিয়ান নম্বর ১২৩-এ সংশ্লিষ্ট জমির তথ্য রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ের ভূমি রেকর্ডে এসব সম্পত্তিকে দেবোত্তর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেবায়েত ও জিম্মাদারদের নামও বিভিন্ন রেকর্ডে রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ সম্প্রতি একটি পক্ষ সেবায়েতদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে ওই সম্পত্তি কেনার দাবি করে জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর ফলে জমিতে বসবাসকারী কয়েকটি হিন্দু পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ৯টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নতুনহাট-নামোশংকরবাটি এলাকার খাইরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও কায়েম আলীসহ ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি শিবরামপুর এলাকায় গিয়ে স্থানীয় হিন্দুদের ধানিজমি ও বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগকারীরা জানান।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন দেবোত্তর হিসেবে রেকর্ডভুক্ত কোনো সম্পত্তি কীভাবে ব্যক্তি মালিকানায় বিক্রি করা হলো এবং ওই সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের বৈধতা কী?
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন শিবরামপুর কালীমাতা মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগকারীদের মধ্যে হেমন্ত কুমার মাহাতো, আকাশ মাহাতো, রঞ্জিত কুমার মাহাতো, দয়াল চন্দ্র মাহাতো, নিপেন্দ্রনাথ মাহাতো, সুজন মুন্ডা, দুঃখু মুন্ডা, নয়ন মাহাতো, শ্রীনাথ রাজবংশী, রাজকুমার মুন্ডা, প্রদীপ কুমার মাহাতো, দিপু, হরিপদ মাহাতো, খোশু মাহাতো, জোসনা সরেন, শ্রীমন্ত মাহাতো, দেবেন কর্মকার, মহেশ মাহাতো, মুড্ডা, উতফর মাহাতো, আনন্দ কর্মকার ও বাদল কর্মকারের নাম উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ড ও দলিলপত্র যাচাই-বাছাই, সরেজমিন তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিষয়টির সুরাহা না হলে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় আরও উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। অভিযোগের বিষয়ে খাইরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও কায়েম আলীর মুঠোফোনে কল করা হলে সংযোগ না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায় নি ।