রংপুরে কালোবাজারির মাধ্যমে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে টিসিবির পণ্য মজুদ রাখার মামলায় মো. আলী হাসান মুন্না (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মশিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আলী হাসান মুন্না রংপুর মহানগরীর কোতয়ালী থানার আলমনগর কলোনি এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত এখলাক হাজীর ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কোতয়ালী থানার মামলা নম্বর-৬৩, তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০২০ এবং জিআর নম্বর-৭২৩/২০ (কোতয়ালী) মামলাটি পরবর্তীতে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর-১০৩/২৫ হিসেবে বিচারাধীন ছিল। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, কালোবাজারির মাধ্যমে অসাধুভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে টিসিবির পণ্য মজুদ করার অপরাধে আলী হাসান মুন্নার কাছ থেকে ৪০০ কেজি চিনি, ৫৪ লিটার সয়াবিন তেল এবং ২৮৮ কেজি পেঁয়াজ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন মো. আব্দুল হাদী বেলালের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন।
এরপর আদালত ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(১) ধারায় আলী হাসান মুন্নাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।