নির্মাণের দুই মাস না যেতেই বেহাল হয়ে পড়েছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক। প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটির বিভিন্ন অংশে পিচ-পাথর উঠে যায় । এনিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা এবং অনলাইনে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীতে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও উজিরপুরের বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের নিয়ে প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের অফিসে মিডিয়া ম্যানেজ ও সড়কের অনিয়ম ধামাচাপা দিয়ে ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য মোটা অংকের লেনদেন হয়েছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। এরপর থেকে ওই সড়কটির ত্রুটি পূর্ণ অংশ রেখে ভাল রাস্তার ছবি ব্যাবহার করে ঠিকাদারের পক্ষে সাফাই শুরু হয়েছে। এনিয়ে প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের ভুমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নে উঠেছে। যেখানে তিনি দূর্নিতী ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আবস্থান নিবেন সেখানে তিনি নিজেই ভক্ষকের ভূমিকায় রয়েছেন।
এ নিয়ে নির্মাণকাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। কাজটি সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অনিয়ম ও যথাযথ তদারকির অভাবেই নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটির বিভিন্নস্থানে পিচ ও পাথর উঠে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের প্রস্থ কমে গেছে। তাদের দাবি, পুরোনো সড়কের প্রস্থের সঙ্গে নতুন সড়কের প্রস্থ সরেজমিন মেপে দেখা হোক। একই সঙ্গে সড়কের পুরুত্ব, ব্যবহৃত নির্মাণ সামগ্রীর মান ও কাজের পরিমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হোক। এ ঘটনায় উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের তদারকি ও দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালে যথাযথভাবে তদারকি করা হলে এতো দ্রুত সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়। তবে প্রকৌশলী সুব্রত রায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বৃষ্টির কারণে সড়কের কয়েকটি স্থানে পানি জমে ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো মেরামত করা হবে। এছাড়া মিডিয়া ম্যানেজের বিষয়টি তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নির্মাণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে পিচ ও পাথর উঠে যাওয়ার কারণ হিসেবে শুধু বৃষ্টিকে দায়ী না করে বিষয়টি কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, সড়কের প্রস্থ ও পুরুত্ব মাপার পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীর মান, কাজের পরিমাণ এবং প্রকল্প-সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। তাদের দাবি, তদন্তে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম কিংবা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।