বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনার তড়িৎ ব্যবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ১২ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে মীরগঞ্জ এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে রফিয়াদী গ্রামের ভাঙনকবলিত স্থানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। গত ১৮ আগস্ট আকস্মিক নদীভাঙনে রফিয়াদী গ্রামের অন্তত ৮ থেকে ১০টি পরিবারের বসতঘর, ফসলি জমি, গাছপালা ও সড়কের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সহায়তা প্রদান করেন। একই সঙ্গে দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। ইউএনওর তৎপরতায় এক সপ্তাহের মধ্যেই জরুরি ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রকল্পের আওতায় ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী ও প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ১২ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ নদীতীরে ডাম্পিং করা হবে। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের তীব্রতা কমিয়ে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে এ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ডাম্পিং কার্যক্রমের সময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিএ শাহরিয়ার রহমান বাবু, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জামাল হোসেন পুতুলসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ইউএনওর তড়িৎ উদ্যোগে দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু হওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন প্রতিবছরই ভয়াবহ আকার ধারণ করায় শুধু জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা নয়, স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে টেকসই প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান তারা। তাদের মতে, দ্রুত স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বসতঘর, ফসলি জমি, সড়ক ও অন্যান্য স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।