সিলেটের ওসমানীনগরে তেলবাহী ট্যাংকলরি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক শিশু ও অটোরিকশাচালকও রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম (কসরতল) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের বাসিন্দা নিয়ামত আলী (৩২), তাঁর স্ত্রী হজুফা (২৮), তাঁদের চার বছরের মেয়ে আয়েশা এবং অটোরিকশাচালক লালন মিয়া। নিয়ামত আলী পরিবার নিয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বসবাস করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় একটি তেলবাহী ট্যাংকলরির সঙ্গে যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ট্যাংকলরিটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঢ ৪৪-০৬৫৪ এবং অটোরিকশাটির নম্বর মৌলভীবাজার-থ ১১-৮৩৫৩।
সংঘর্ষের পর অটোরিকশাটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহত দুজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফাও চারজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর হতাহতদের উদ্ধারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন।
এদিকে, একই মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে এর আগেও বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে। গত ৭ আগস্ট সকালে ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোট ১১ জন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর ফাইজা আক্তার নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সপ্তম রায় প্রীতমসহ আরও তিনজন মারা যান।
এর মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে একই মহাসড়কে আবারও চারজনের প্রাণহানির ঘটনায় সড়কটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।