উজিরপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
উজিরপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ

বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ও উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, স্বেচ্ছাচারিতা, নাগরিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং জনসেবা ব্যাহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাউন্সিলরের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত ওয়ার্ডে আসেন না। সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেন না। এমনকি সমস্যা নিয়ে তার কাছে গেলে অনেক নাগরিককে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে। পাশাপাশি অধিকাংশ সময় তাকে অফিসে পাওয়া যায়না। যেকারণে ভূক্তভোগী ৭ নম্বর ওয়ার্ডবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনই অভিযোগ করেছেন ওই ওয়ার্ডের শত শত বাসিন্দারা।

ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, তিনি একজন প্রকৌশলী হওয়ায় ওই এলাকার দরিদ্র মানুষগুলো তার কাছে নিজেদের সমস্যার কথা নিয়ে সহজে যেতে পারেন না। আর যারাও যায় তারা তাকে অধিকাংশ সময় অফিসে পাচ্ছেন না। মাঝে মধ্যে অফিসে পাওয়া গেলেও নানা অজুহাতে তাদের মাসের পর মাস ঘুড়াচ্ছেন।

সূত্রমতে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর উজিরপুর পৌরসভার তৎকালীন মেয়র ও কাউন্সিলররা উজিরপুর ছেড়ে চলে যায়। এতে পৌরসভার জনপ্রতিনিধিত্বে শুন্যতা সৃষ্টি হলে সরকার পৌর প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নিয়োগ দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক ব্যক্তিরা অভিযোগ করে বলেন, একজন কাউন্সিলরের কাছে নাগরিকরা তাদের সমস্যা নিয়ে যাবেন-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেখানে যদি সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়, তাহলে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। তাদের অভিযোগ, কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় বিভিন্ন নাগরিক সেবা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।

বিশেষ করে, তিনি প্রায় সময় বরিশাল শহরে থাকেন। তাকে ফোন দিয়েও পাওয়া যায় না। ওই ওয়ার্ডের একাধিক বাসিন্দারা বলেন, তাদের ওয়ার্ডটিতে দরিদ্র মানুষের বসবাস বেশি। কিন্তু সুব্রত রায় দায়িত্ব নেওয়ার পর সেখানে তেমন কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সাধারণ মানুষ সেবা পেতে তার সরকারি অফিসে গিয়ে সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেও তার দেখা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। মাঝে মধ্যে দেখা পেলেও তার রুক্ষ আচরণে নিরাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এ নিয়ে কাউন্সিলরের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সচেতন নাগরিকদের দাবি, সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জনস্বার্থে তাকে কাউন্সিলরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ও সক্রিয় একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে