ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা শিরিন আক্তার। তবে বিভিন্ন হুমকির অভিযোগ তুলে পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার দুপুরে সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন নুসরাতের মা। শিরিন আক্তার বলেন, ‘নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর অনেকে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছিল। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে এটি আবারও হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি এ রায়ে সন্তুষ্ট, আলহামদুলিল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে সবাইকে শেষ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন তিনি।
নুসরাত হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন—সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন—উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ ও ইফতেখার হোসেন রানা। খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন—মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমিন, আফসার উদ্দিন, মাকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আব্দুর রহিম শরীফ, ইমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, কামরুন নাহার মনি ও আরও একজন আসামি।