গভীর বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসমান এফবি মায়ের দোয়া ও এফবি আলা-আমীন নামে দুটি ফিশিং ট্রলারসহ ২৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনী। উদ্ধার হওয়া ট্রলারসহ জেলেদেরকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর কোস্টগার্ড স্টেশনে নেওয়া হয়েছে। সেখানে নিয়ে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছে কোস্টগার্ড।ট্রলার ২টির মালিকের বাড়ি শরণখোলা উপজেলায়। মঙ্গলবার ২৫ (আগস্ট) বিকেলে মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ।
সোমবার (২৪আগস্ট) রাত ৮টার দিকে দুবলার চর থেকে প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে গভীর সমুদ্র থেকে ১২ জেলেসহ এফবি মায়ে দোয়া ট্রলারটি উদ্ধার করে কোস্টাগর্ড। একই সময় নৌবাহিনীর বিএনএস কপোতাক্ষ জাহাজ ১৬ জন জেলেসহ ইঞ্জিন বিকল হওয়া এফবি আল-আমীন নামে অপর ট্রলারটি উদ্ধারের পর হস্তান্তর করে কোস্টগার্ডের কাছে।
উদ্ধার হওয়া ট্রলার দুটির মধ্যে এফবি মায়ের দোয়ার মালিক বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার উত্তর কদমতলা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী কালাম খাঁ এবং এফবি আল-আমীন ট্রলারের মালিক একই এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী সোবাহ মৃধা। মঙ্গলবার (২৫আগস্ট) বিকালে কোস্টগার্ডে মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডর সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানিয়েছেন।
কোস্টাগর্ড জানায়, গত রবিবার রাতে এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারটি মাছ ধরা অবস্থায় হঠাৎ ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকে সুমদ্রে। এভাবে ভাসতে ভাসতে একদিন পর নেটওয়ার্কের আওতায় এলে জেলেরা তাদের মালিককে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে ট্রলার মালিক কালাম খাঁ কোস্টগার্ডের জরুরি সেবানম্বর ১৬১১১-এ ফোন করে সহায়তা চান। খবর পেয়ে কোস্টগার্ডের দুবলা স্টেশনের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বিকল ট্রলারসহ ১২ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেন।
কোস্টগার্ড সূত্র আরো জানায়, একইভাবে নৌবাহিনীর সদস্যরাও নিয়মিত টহলকালে ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় এফবি আল-আমীন ট্রলারটি সমুদ্রে ভাসতে দেখেন। পরে সেই ট্রলারে থাকা ১৬ জেলেকেও জীবিত উদ্ধার করে কোস্টগার্ডের দুবলা স্টেশনের কাছে হস্তান্তর করে নৌবাহিনী। উদ্ধার জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার দিয়ে সুস্থ করা হয়েছে।
মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন বলেন, উদ্ধার জেলেদেরকে তাদের মহ্জানদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। মালিকদের দুবলা স্টেশনে আসার জন্য বলা হলে তারা শরণখোলা থেকে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সমুদ্রে বিপদে পড়া জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের এমন মানবিক সহযোগিতা বভিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, এমনটাই বললেন ওই মিডিয়া কর্মকর্তা।