কলারোয়ায়

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে তরুণীর অনশন

এফএনএস (জুলফিকার আলী; কলারোয়া, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে তরুণীর অনশন

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কের নামে একাধিকবার ধর্ষণ ও গর্ভপাতের পর প্রতারক প্রেমিকের বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও বিয়ের দাবিতে ওই তরুণী অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত প্রতারক মনিরুল ইসলাম কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের আশা গাজীর ছেলে। ভুক্তভোগী নারী রেক্সোনা আক্তার স্মৃতি (২০) একই উপজেলার ৪ নম্বর লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের আনারুল ইসলামের কন্যা।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে রেক্সোনা আক্তার স্মৃতির সাথে মনিরুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুবাদে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মনিরুল তার নিজ বাড়িসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন পার্কে ও গোপন স্থানে নিয়ে স্মৃতির ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে স্মৃতি গর্ভবতী হয়ে পড়লে গত ২০২৫ সালের ২৪ মে সাতক্ষীরার স্বপ্না ক্লিনিক অ্যান্ড আকসা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করিয়ে গর্ভাবস্থার সত্যতা (পজিটিভ রিপোর্ট) নিশ্চিত করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, গর্ভাবস্থার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কাজী ডেকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই তরুণীকে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে কৌশলে গর্ভপাত (অ্যাবশন) করানো হয়। পরবর্তীতে সমস্ত প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্ক অস্বীকার করে প্রতারক মনিরুল গোপনে বিদেশ চলে যান। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বিদেশ চলে যাওয়ার পর অসহায় ওই নারী কোনো উপায় না পেয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন। স্থানীয়দের পরামর্শে শুক্রবার (২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগী নারী তার অধিকার ও স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামে মনিরুল ইসলামের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি জানান, তাকে বিয়ে ও পারিবারিক মর্যাদা না দিলে তিনি ওই বাড়িতেই বিষপান করে বা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মনিরুলের পরিবার ওই ওয়ার্ডের সাবেক এক ইউপি সদস্যকে ডেকে আনেন। পরবর্তীতে স্থানীয় মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আশ্বাসে যে, মনিরুল দেশে ফিরলে স্থানীয়ভাবে এই ঘটনার সঠিক বিচার করা হবে। পরে ওই নারী এমন আশ্বাসে বাড়ি ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অসহায় রেক্সোনা আক্তার স্মৃতি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতারক মনিরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে