ব্যস্ততম সড়কে সারিবদ্ধ অটোরিকশা, যানজটের কবলে সৈয়দপুরবাসী

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
ব্যস্ততম সড়কে সারিবদ্ধ অটোরিকশা, যানজটের কবলে সৈয়দপুরবাসী

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহর যেন এখন লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশার শহরে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়কগুলোতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকছে অটোরিকশা। ফলে যানজট এখন নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মদিনা মোড় থেকে তুলশীরাম সড়ক এলাকায় দিনের বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

শুধু তুলশীরাম সড়ক নয়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব সড়কেই একই চিত্র। সড়কের পাশে ও মোড়গুলোতে যাত্রী ওঠানামার জন্য অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অটোভ্যান, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা, পায়ে চালিত ভ্যান ও রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। ফলে তুলনামূলক সরু সড়কের সৈয়দপুরে যানবাহনের চাপ দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে।

পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, সৈয়দপুর শহরে বৈধ অটোরিকশার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার। অথচ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাস্তবে শহরের সড়কে চলাচল করছে ৭ হাজারেরও বেশি অটোরিকশা। অর্থাৎ বৈধ যানবাহনের তুলনায় অবৈধ বা লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশার সংখ্যা অনেক বেশি। এসব যানবাহনের বড় একটি অংশের নেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে না থাকায় শহরের যানজট পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছে। ব্যস্ততম সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী যান ও জরুরি সেবার যানবাহনও অনেক সময় আটকা পড়ছে। এতে কর্মজীবী মানুষকে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, যানজট নিরসনে মাঝে মধ্যে পৌরসভার পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলেও এর স্থায়ী কোনো সুফল মিলছে না। অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবার সড়কে ফিরে আসছে অনেক অটোরিকশা। ফলে অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শহরবাসী। অন্যদিকে, যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগের জনবলও প্রয়োজনের তুলনায় কম। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক যানবাহনের চাপ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

শহরবাসীর ভাষ্য, শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না। শহরে চলাচলকারী সব অটোরিকশার নিবন্ধন ও বৈধ কাগজপত্র যাচাই, অবৈধ যানবাহন বন্ধ, নির্দিষ্ট স্থানে অটোরিকশার স্ট্যান্ড স্থাপন এবং সড়কে যেখানে-সেখানে পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের দাবি, পৌরসভা, ট্রাফিক বিভাগ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে শহরের যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ভবিষ্যতে সৈয়দপুরের যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে শহরবাসীকে প্রতিদিনের এই চরম ভোগান্তি থেকে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে