শিশুর কান্না একজন মায়ের কাছে যেন আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ার মতো। সেই কান্না এবার নাড়া দিয়েছে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার হৃদয়। অসহায় এক শিশুর কান্না শুনে তার পাশে দাঁড়িয়ে নতুন ভ্যান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
শিশুটির নাম রেজোয়ান। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সে। একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে লেখাপড়ার পাশাপাশি মাঝে মধ্যে ভ্যান চালিয়ে সংসারের খরচে সে সহযোগিতা করে।
জানা গেছে, সম্প্রতি ভ্যান নিয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে ভাড়া নিয়ে তারাগঞ্জে আসে রেজোয়ান। সেখান থেকে দুই যাত্রীকে নিয়ে সৈয়দপুরে আসে। কিন্তু সৈয়দপুরে এসে বুঝতে পারে, তারা যাত্রী নয় প্রতারক চক্রের সদস্য। কৌশলে শিশুটিকে ফাঁদে ফেলে তার ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। ভ্যান হারিয়ে মুহূর্তেই দিশেহারা হয়ে পড়ে রেজোয়ান। পরিবারের জীবিকার অন্যতম অবলম্বন হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। কিছুতেই তার কান্না থামছিল না। শিশুটির আহাজারির খবর পৌঁছে যায় সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার কাছে। পরে শিশুটির পরিচয় ও ভ্যান হারানোর ঘটনা জানতে পারেন ইউএনও। তার সঙ্গে কথা বলে নতুন একটি ভ্যান দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। ইউএনওর এই আশ্বাসে কিছুটা শান্ত হয় কান্নায় ভেঙে পড়া রেজোয়ান।
স্থানীয়রা জানান, অভাবের কারণে অল্প বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়েছে রেজোয়ানকে। একদিকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা, অন্যদিকে জীবিকার তাগিদে ভ্যান চালানো এভাবেই চলছে তার জীবন। তার একমাত্র উপার্জনের অবলম্বনটি প্রতারকদের হাতে হারিয়ে যাওয়ায় পরিবারটি চরম বিপাকে পড়েছে। শিশুটির প্রতি ইউএনও ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার এমন মানবিক আচরণে প্রশংসা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করে। এদিকে রেজোয়ানের হারিয়ে যাওয়া ভ্যানটি উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।