তানোরে

কৃষকের উপর প্রভাবশালী ৮টি মামলা খারিজের পর আবারো মামলা

এফএনএস (তানোর, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
কৃষকের উপর প্রভাবশালী ৮টি মামলা খারিজের পর আবারো মামলা

রাজশাহীর তানোরে জমি নিয়ে বিরোধে কৃষকের উপর প্রভাবশালীর করা ৮টি মামলা আদালত কর্তৃক খারিজের পর আবারো ১টি মামলা করার খবরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর তানোর উপজেলা পাঁচন্দর ইউনিয়নের চিমনা গ্রামে। একের পর এক এমন মিথ্যে মামলা দিয়ে কৃষককে হয়রানির ঘটনায় এলাকা বাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। 

ওই একই জমি নিয়ে করা মামলা গুলো আদালত খারিজ করে দিলেও কৃষকের উপর একের পর এক মামলা করছেন প্রভাবশালী প্রতিপক্ষরা। একের পর এক দায়ের করা ৮টি মামলা আদালত কর্তৃক খারিজের পর সম্প্রতি আদালতে আরো ১ টি মামলা দায়ের করেছেন প্রতিপক্ষ প্রভাবশালীরা। এ নিয়ে ভুক্তভোগী কৃষকের উপর একই জমি নিয়ে ৯ টি মামলা করলেন প্রতিপক্ষরা প্রভাবশালীরা। 

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের চিমনা গ্রামের দুবইল মৌজার জেএল নং ৮৫, দাগ নং ৬৬১ পরিমান এক একর ৩৩ শতক জমি আর এস ক্ষতিয়ান নং ২০৭, রকম ধানী জমি ওয়ারিশ সুত্রে প্রাপ্ত হইয়া দীর্ঘদিন যাবৎ শান্তি পূর্ণ ভাবে চাষাবাদ করে আসছেন চিমনা গ্রামের মৃত সাবির মন্ডলের পুত্র আব্দুল মতিন ও তার ওয়ারিগন। 

উক্ত সম্পত্তি নিজের দাবি করে যুগিশো গ্রামের সোনারদীর পুত্র বাবলু ও তার আত্নীয় স্বজন জমি দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে। জমি দখলে ব্যার্থ হয়ে কোর্টের মাধ্যমে বাবলুর  আত্নীয় স্বজনরা মতিন ও তার ওয়ারিশগনকে এভিডেভিট করে বন সই দিয়ে জমি ছেড়ে দেন। জমি ছেড়ে দেয়ার পর গত ২০১৭ সালের ২২ আগষ্ট ওই জমিকে কেন্দ্র করে আদালতে আব্দুল মতিনসহ ৬ জনকে আসামী করে বাবলু তার বন্ধু ইখতিয়ার উদ্দিন শাহিনকে বাদি করে আদালতে মামলা করেন। আদালত উভয় পক্ষের কাগজপত্র দেখে মামলাটি খারিজ করে দেন। 

পরে ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী আবারো ওই একই ব্যক্তি বাদি হয়ে মতিনসহ ওই ৬ জনকে আসামী করে পুনরায় আদালতে আরো একটি মামলা করেন। আদালত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তানোর থানাকে নির্দেশ দেয়। তানোর থানা পুলিশ তদন্ত করে বিবাদীদের পক্ষে আদালতে রিপোর্ট দিলে আদালত সেই মামলাটিও খারিজ করে দেন।  পরে গত ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর একই ব্যক্তি পুনরায় বাদি হয়ে আব্দুল মতিনসহ ৭ জনকে আসামী করে ওই জমিকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত সাপেক্ষে রিপোর্ট প্রদানের জন্য তানোর সহকারী কমিশনার ভূমিকে দায়িত্ব দেন। তানোর সহকারী কমিশনার ভূমি তদন্ত সাপেক্ষে বিবাদীদের পক্ষে আদালতে রিপোর্ট জমা দিলে আদালত সেই মামলাটিও  খারিজ করে দেন। 

অপর দিকে গত ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর বাবলু বাদি হয়ে ওই একই জমি নিয়ে আব্দুল মতিনসহ ৭জনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত ওই মামলাটিও তানোর সহকারী কমিশনার ভূমিকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। তানোর সহকারী কমিশনার ভূমি তদন্ত সাপেক্ষে বিবাদীদের পক্ষে আদালতে রিপোর্ট প্রদান করেন। আদালত সেই মামলাটি খারিজ করে দেন।  অপর দিকে ওই একই জমিকে কেন্দ্র করে বাবলু বাদি হয়ে পুনরায় ২০১৮ সালের ১২ মার্চ আব্দুল মতিনসহ তার ওয়ারিশদের ১৫ জনকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটির সকল আসামীকে খালাস দিয়ে মামলাটি খারিজ করে দেন। ওই জমি নিয়েই  ২০১৮ সালের ৭ই নভেম্বর বাবলু বাদি হয়ে আব্দুল মতিনসহ ৭জনকে আসামী করে তানোর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তানোর থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত সাপেক্ষে বিবাদীদের পক্ষে রিপোর্টসহ মামলাটি আদালতে পাঠিয়ে দেন। পরে বাদী পুলিশের রিপোর্টের বিপক্ষে আদালতে নারাজি দিলে আদালত সেটি পিবিআইকে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেন। পিবিআই বিবাদীর কাগজপত্র দেখে মামলাটি ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে জমা দিলে আদালত সেই মামলাটিও খারিজ করে দেন।  পরে বাবলু তার স্ত্রী শাহিরা বেগমকে বাদি করে আব্দুল মতিনসহ ১২জনকে আসামী করে আদালতে ১৪৫ দারায় আরো একটি মামলা দায়ের করান। আদালত বিবাদীদের কাগজপত্র দেখে মামলাটি খারিজ করে দেন।  অপর দিকে ওই একই জমিকে কেন্দ্র করে বাবলু তার বন্ধু এরাজ উদ্দীনকে বিবাদী করে আব্দুল মতিনসহ ৫ জনকে আসামী করে ২০২২ সালের ১১ নভেম্বর আদালতে আরো একটি মামলা দায়ের করান। আদালত আসামীদের কাগজপত্র দেখে সেই মামলাটি খারিজ করে দেন। 

পরে ওই জমিকে কেন্দ্র করে সর্ব শেষ চলতি বছরের গত মাসে বাবলু বাদি হয়ে আব্দুল মতিনসহ ৭জনকে আসামী করে আদালতে আরো একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি তদন্ত সাপেক্ষে রিপোর্ট প্রদানের জন্য তানোর থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে তানোর থানা পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে। সর্বশেষ এই মামলা দায়ের করার খবরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে সমালোচনা ঝড়। এলাকাবাসী বলছেন কৃষককে একের পর এক এভাবে মিথ্যা মামলা দেয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলে জানান তারা। এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তানোর থানার এসআই খালিদুর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত চলছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করে আদালতে প্রতিবেদন প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে