নওগাঁর আত্রাইয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে বাল্য বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বরকে আটক করে নিয়ে যাবার সময় হামলা ও মারপিট করে গাড়ী থেকে বরকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে। হামলায় সাহাদাত হোসেন নামে একজন গ্রামপুলিশ আহত হয়েছেন। এঘটনায় বিশা ইউনিয়ন শ্রমীকদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন এবং বর আল আমিন ও কনেকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে উপজেলার সমসপাড়া সরদারপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। বর আল আমিন ওই গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে।
বিশা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ সাহাদাত হোসেন জানান,সমসপাড়া সরদার পাড়া গ্রামে বাল্য বিয়ে হচ্ছে, এমন খবরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন। সংবাদ পেয়ে সেখানে আমিও যাই। এর পর নির্বাহী কর্মকর্তা বাল্য বিয়ের দায়ে বর আল আমিনকে আটক করে গাড়ীতে তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় বর পক্ষের লোকজন ভ্রাম্যমান আদালতের গাড়ী আটক করে গাড়ী থেকে বরকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ইউএনও স্যারের উপর হামলার চেষ্টা করলে আমি স্যারকে রক্ষা করতে সামনে এগিয়ে যাই। এসময় আমাকে মারধরসহ ইউএনও স্যারের সাথে থাকা অন্যদের উপর হামলা করে। খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পরিস্থিতী নিয়ন্ত্রন করে। মারধরে আহত হয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাহাদাত হোসেন।
মাহাতাব হোসেন বিশা ইউনিয়ন শ্রমীকদলের সাধারণ সম্পাদক জানিয়ে ওই ইউনিয়ন শ্রমীকদলের সভাপতি মোকছেদ হোসেন বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে হামলা করেছে এবং আটক হয়েছে এমন খবর পেয়ে তাকে থানায় দেখতে এসেছি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, মোবাইল কোর্টে হামলা হয়েছে শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। ঘটনাস্থল থেকে সমসপাড়া সরদারপাড়া গ্রামের মাহাতাব আলী এবং বর আল আমিন এবং কনেকে আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন,মাত্র ১২বছর বয়সি ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে হচ্ছে,এমন খবর পেয়ে সমসপাড়া সরদারপাড়া গ্রামে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে বর আল আমিনকে আটক করে গাড়ীতে তোলা হয়। এসময় বর পক্ষের লোকজন পুলিশ ও স্টাফদের উপর হামলা চালিয়ে গাড়ী আটকে বর আল আমিনকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় হামলায় গ্রামপুলিশ সাহাদাত হোসেন কিছুটা আহত হয়েছেন। পরে থানার ওসিকে জানালে তিনি দ্রুত অতিরিক্তি পুলিশ ফোর্সসহ ছুটে এসে পরিস্থীতি নিয়ন্ত্রন করেন। এসময় স্থানীয় মাহাতাব হোসেন, বর আল আমিন এবং কনেকে আটক করা হয়েছে। এঘটনায় বাল্য বিবাহ সংঘটন ও সরকারী কাজে বাধাপ্রদানের দায়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।