শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল হাইকোর্টে

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল হাইকোর্টে
ছবি: সংগ্রহীত

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এর ফলে বিচারিক আদালতে দেওয়া হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডই উচ্চ আদালতে বহাল থাকল।

হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ২৪ আগস্ট রায়ের জন্য ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট। তবে নির্ধারিত দিনে রায় ঘোষণা হয়নি। পরে সোমবার রায়ের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

মামলায় হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক শুনানিতে আদালতকে জানান, মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দি, হিটু শেখের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং মেডিকেল রিপোর্টসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান হিটু শেখের পক্ষে খালাসের আবেদন করেন।

২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। অভিযোগ রয়েছে, তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন।

গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

আছিয়ার মৃত্যুর সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে শিশুটির মরদেহ সামরিক হেলিকপ্টারে করে মাগুরায় নেওয়া হয়।

এর আগে ৮ মার্চ আছিয়ার মা চারজনকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে ৭ মে শেষ হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

এরপর ১৩ মে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে ১৭ মে রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মামলার অপর তিন আসামি, আছিয়ার বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ছোট ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেন আদালত।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে সেই রায় অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠাতে হয়। সে অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২১ মে এ মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়।

পরে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য মামলার নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত শেষে ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে।

হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও তার করা আপিলের ওপর দুই পক্ষের শুনানি শেষে রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। শেষ পর্যন্ত সোমবার রায় ঘোষণা করে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন উচ্চ আদালত।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে