তানোরে এখন আর চোখে পড়েনা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরুর গাড়ী

এফএনএস (সাইদ হোসেন সাজু; তানোর, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
তানোরে এখন আর চোখে পড়েনা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরুর গাড়ী

তানোর রাজশাহীর তানোর উপজেলার গ্রামে গ্রামে এখন আর দেখা যায়না গরুর গাড়ী। অথচ একসময় আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাহন হিসেবে গরুর গাড়ির প্রচলন ছিল। গ্রামবাংলায় গরুর গাড়িই ছিল যোগাযোগের একমাত্র বাহন। তানোর উপজেলায় কালের পরিক্রমায় আধুনিকতার স্পর্শে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি এখন শুধুই অতীতের স্মৃতি। গ্রামগঞ্জে আঁকাবাঁকা মেঠো পথে ধীরে ধীরে বয়ে চলা গরুর গাড়ি এখন আর চোখে পড়ে না।

গরুর গাড়ির ইতিহাস সুপ্রাচীন। নব্যপ্রস্তর যুগের সময় থেকেই মানুষ এই বাহনটি ব্যবহার করে আসছে। হরপ্পা সভ্যতাতেও যে গরুর গাড়ির অস্তিত্ব ছিল তার সপক্ষে প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানেও নানা অঞ্চল থেকে এক অক্ষ বিশিষ্ট চাকাওলা নানা খেলনা পাওয়া গেছে। এগুলো থেকে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, খ্রিস্টজন্মের ১৬০০ থেকে ১৫০০ বছর আগেই সিন্ধু অববাহিকা ও ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে গরুর গাড়ির প্রচলন ছিল। যা সেখান থেকে ক্রমে ক্রমে দক্ষিণে ছড়িয়ে পড়ে ‘আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে’ গান শুনলে অগোচরেই চোখে ভাসে মেঠো পথের ধারে ভাওয়াইয়া সুরে গাড়িয়াল ভাইয়ের গরুর গাড়ি। যদিও আজ আর চোখে পড়ে না গরুর গাড়ি। গ্রামগঞ্জে বিবাহের বর কনে আসা-যাওয়া করতো গরুর গাড়িতে। রাত-দুপুরে, ঘন অন্ধকারে বা জ্যোস্নার আলোয় আঁকাবাঁকা মেঠো পথে গাড়িয়াল গরুর গাড়ি করে বাড়ি পৌঁছে দিতো। একদিকে গাড়িয়ালের গানের সুর আর অপরদিকে কনের কান্নার সুর মিলেমিশে একাকার হয়ে যেত।

তানোর সদর গ্রামের খোদাবক্স মেম্বারের পুত্র মনজুর রহমান বলেন আমাদের বাড়িতে গরু ও মহিষের গাড়ী ছিলো, এখন আর নেই। তিনি বলেন ছোট বেলায় আমরা দেখেছি বরযাত্রী থেকে শুরু করে কনে আনা চলতো বাহারী সাজের টাপ্পর তোরা এ গাড়ি দিয়ে। জমি থেকে ধান আনা, মালা মাল পরিবহন ও যানবাহন হিসেবে গরুর গাড়ি ছিল অপরিহার্য। এখন গরু-মহিষের গাড়ি প্রায় দেখা যায় না বললেই চলে। আজকাল শহরের সঙ্গে গ্রামেও লেগেছে আধুনিকতার ছোয়া। আধুনিক সবাই যানবাহনের ভিড়ে ঐতিহ্যবাহী যানবাহনটি আজ বিলুপ্তির পথে।

তানোর উপজেলার গাইন পাড়া গ্রামের এমাজ উদ্দিনের পুত্র মাহাবুব জুয়েল বলেন, আমাদের গরুর গাড়ী ছিলো এখন নেই। তিনি বলেন, ছোট বেলায় গরুর গাড়ীতে নানির বাড়িতে যাওয়ার সময় প্রচুর আনন্দ হতো, সেই আনন্দ এখন আর নেই। তিনি বলেন ধান, কুটা, কুড়া, খৈলসহ মালামাল আনা নেওয়ার জন্য। তবে আজ প্রায় ২৫ বছর এটি বন্ধ। আধুনিক সকল যানবাহন আসায় এটি এখন আর চলে না। কালের আবর্তনে হারিয়ে গেছে গরুর গাড়ী।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে