ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ শহরের ১৩ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষিত চাঁন্দিনাটি আবার ও পরিত্যাক্ত ঘোষনা করলেন প্রশাসন। প্রায় ১৩ বছরে দুইবার পরিত্যাক্ত ঘোষনা করলে ও হাটচাদনিতে ব্যবসায়িরা কেই তাদের ব্যবসার স্থানছেড়ে যায়নি। ফলে ব্যবনায়িরা জীকনের ঝুকি নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনের নিচে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করছেন প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসায়ী। এছাড়া প্রতিদিন অন্তত আরও ৫ ধেকে ৭ শতাধিক ক্রেতা এখানে কেনাবেচা করতে আসেন, ফলে পুরো বাজার এলাকাটি একটি ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী কবির হাচান জানান, ২০১৩ সালের ২ মে একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়। ব্যবসায়িদের ওই জায়গা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে, কিন্তু তারা যাননি। একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে তাদের। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা যচ্ছেন না। কিন্তু ভবনের বর্তমান অবস্থা এতই খারাপ রয কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।ফলে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজোয়ানা নাহিদ গত ১০/৯/২৬ ইং তারিখে একটি নোটিশ শাটিয়ে দিয়েছেন।নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে কালীগঞ্জ শহরের হাট চাদনী ভবনটি পরিত্যাক্ত ও ঝুকিপূর্ন।ভবনটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ কর হল।কিন্তু নোটিশ সাটানোর পর ও কোন ব্যবসায়ি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না সরিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ও ক্রেতারা তাদের প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয় করছেন। প্রশাসন ১৩ বছরে ২ বার নোটিশ দেওয়ার পর ও কেন ব্যবসায়িরা স্থান ত্যাগ না করে চুটিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়িরা বলছেন ২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর দোকানে বসে ছিলেন চাউল ব্যবসায়ি অজয় কুমার। হঠাৎ ছাদের একটি অংশ ধসে তার মাথার উপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে তিনে মারা যান। এ সময় আরো দুইজন আহত হন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের প্রধান কাঁচা বাজারটি ১৯৮৭-৮৮ অর্থ বছরে ভবন নির্মান করা হয়। হাট-চাঁদনী বলে পরিচিত এই চাঁন্দিতে দুই শতাধিক দোকান রয়েছে। যার বেশির ভাগ সবজী ও মুদি দোকান ব্যবসায়ি। এই চাঁন্দিনার দুই পাশে রয়েছে আরো দুইটি টিনসেডের চাঁন্দিনা। যার একটিতে আটা-ময়দা, দধি আর অপরটিতে মাছ ও মাংশ বিক্রি হয়।তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মরহুম রফি উদ্দিনের প্রচেষ্টায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যায়ে এই চাঁন্দিনা নির্মিত হয়। হাটচাঁদনিটিতে ‘বাঁশের চরাট বা বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে যাতে পলেস্তারা ভেঙে না পড়ে। ২০১৩ সালের ১৩ মে পরিত্যক্ত ভবন ঘোষণা করে সাইন বোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল।ব্যবসায়িরা মাথা বাঁচাতে বাঁশের খুটি লাগিয়ে চাটাই দিয়ে আড়াল করে রেখেছেন। নিচে কেনাবেচা করলেও চিন্তা থাকে ছাদের দিকে এমন টা মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়িরা আর ও বলছেন জীবন হাতের মুঠোই নিয়ে ব্যবসা করা যায় না।এখানে বেশির ভাগ কাঁচা সবজি, চাল, ডাল, চিড়া, মুড়ি, গুড় ও মুদি দোকান রয়েছে।প্রশাসন পরিত্যাক্ত ও ঝুকিপূর্ন ঘোষনার পরে ও কোন ব্যবসায়ি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না সরিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সচেতন মহল মনে করেন প্রশাসন কে কঠোর হতে হবে অন্যথায় কেই এ ভবন থেকে সরবে না।